কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা, অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার
বাড়ি ফেরার জন্য অটোরিকশায় ওঠে ১৫ বছরের জান্নাতুল, অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির বরাতে হত্যার বিবরণ জানাল পুলিশ
- আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ১২:০৭:১৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ১২:০৭:১৪ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৮ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
কুমিল্লার লালমাইয়ে জান্নাতুল তাজমিন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এ তথ্য জানায়। এর আগে গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়।
খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্তসহ আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহটি শনাক্ত করেন। নিহত জান্নাতুল তাজমিনের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় থাকত সে। জান্নাতুল নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। মামলা দায়েরের পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জানায়, গত ৮ অক্টোবর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য অটোরিকশা খুঁজছিল জান্নাতুল। এ সময় ৩০০ টাকা ভাড়ায় সুমনের অটোরিকশায় ওঠে সে। চালক তাকে সংক্ষিপ্ত পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নুরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে অন্যদিকে চলে যায়।
পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে নির্জন ও অন্ধকার স্থানে গিয়ে অটোরিকশা থামায় সুমন। জায়গাটি রেসকোর্স নয় বুঝতে পেরে জান্নাতুল ভীত হয়ে গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় তাকে আটকে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করলে সে চিৎকার শুরু করে। তখন সুমন তার গামছা জান্নাতুলের গলায় পেঁচিয়ে ধরে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কিশোরীটি দুর্বল হয়ে পড়ে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জান্নাতুলকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে। পরে তাকে ধানক্ষেতে নিয়ে মাটিতে উপুড় করে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করার কথা জানায়। এরপর জান্নাতুলের হ্যান্ডব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেয় বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছে সে।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর সুমন ঘটনাস্থলে অটোরিকশা রেখে কাছাকাছি একটি মসজিদের সামনে গিয়ে পুকুরে গোসল করে। পরে ভাড়ায় চালিত আরেকটি অটোরিকশায় ঝালমুড়ি বাজারে যায়। সেখানে একটি পুকুরের পাশের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যায়।
গত ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী ঝালমুড়ি বাজার এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে জান্নাতুলের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।