রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া শুরু
বায়রার সবুজ সংকেতে ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটির পথে রূপপুর
- আপলোড সময় : ০৮-১০-২০২৬ ১০:৩৪:০৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-১০-২০২৬ ১০:৩৪:০৮ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩০ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বায়রা। বৃহস্পতিবার দেওয়া এই অনুমোদনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগের ধাপ ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটির পথ খুলল। চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
বায়রা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি মিললেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের আগে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন সেফটি ভালভ পিওআরভি ও পিওএসভির প্রযুক্তিগত জটিলতায় অনুমোদনটি কিছুদিন আটকে ছিল। পরে রাশিয়া থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে এবং বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষায় ভালভটি উত্তীর্ণ হয়।
অনুমোদনের পর রিঅ্যাক্টরে একটি স্থিতিশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হবে, যার মাধ্যমে রিঅ্যাক্টরটি স্থির অবস্থা থেকে সক্রিয় পারমাণবিক স্থাপনায় রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক ধাপে প্রবেশ করবে। ফিজিক্যাল স্টার্ট আপ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে নির্ধারিত তাপীয় ক্ষমতার এক শতাংশেরও কম শক্তিমাত্রায় চালিয়ে প্রাথমিক ক্রিটিক্যালিটিতে নেওয়া হবে এবং এ সময় বিভিন্ন পরামিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে থাকবে। ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটিসহ পুরো প্রক্রিয়ায় আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ দিন লাগতে পারে। ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হবে।
এরপর প্রকল্প প্রবেশ করবে পাওয়ার স্টার্ট আপ ধাপে, যেখানে ক্ষমতা বৃদ্ধি, টারবাইন সিনক্রোনাইজেশন এবং জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করার কাজ হবে। এজন্য পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে আলাদাভাবে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে। এই পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর, টারবাইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে নিখুঁত সমন্বয়ের পাশাপাশি বাইরের নিয়ন্ত্রক ও সহযোগী সংস্থার সঙ্গেও নিবিড় সমন্বয় রাখা জরুরি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, উৎপাদন শুরুর পর প্রাথমিকভাবে ৩ শতাংশ শক্তি দিয়ে শুরু করে তা ধাপে ধাপে ২০ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে, এরপরই গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে টানা ৭ থেকে ৮ মাস পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলতে পারে। রূপপুরের বিদ্যুৎ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।