তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে প্রস্তাব ৪ বিদেশি প্রতিষ্ঠান
বিমানের একচেটিয়া ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা আনার উদ্যোগ
- আপলোড সময় : ০৯-১০-২০২৬ ১০:০০:৫১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৯-১০-২০২৬ ১০:০০:৫১ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১০ বার পঠিত
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। সংগৃহীত ছবি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চারটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নাম প্রস্তাব করেছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব পেতে যাওয়া জাপানি কনসোর্টিয়াম। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একচেটিয়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা চালুর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের সেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডানাটা এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশন। ইতোমধ্যে নিরাপত্তা ছাড়পত্র চেয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বেবিচকের কাছে এই তালিকা জমা দিয়েছে কনসোর্টিয়াম। ছাড়পত্র পাওয়ার পর চার প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে একটিকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর হিসেবে বেছে নেবে কনসোর্টিয়াম, এরপর নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেবে বেবিচক।
বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান জানান, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিরাপত্তাজনিত, নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত বা অন্য কোনো আপত্তি আছে কি না, তা যাচাই করা হবে। নতুন অপারেটর নিয়োগ হলে তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী হ্যান্ডলিংয়ে বিমানের পাশাপাশি আরেকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করবে, তবে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব বিমানের হাতেই থাকবে।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আওতায় রয়েছে উড়োজাহাজের সেবা কার্যক্রম, যাত্রী ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা, চেক-ইন, র্যাম্প অপারেশন এবং দ্রুত টার্নঅ্যারাউন্ড নিশ্চিত করা। এসবের দক্ষতার ওপর যাত্রীসেবার মান ও ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতা সরাসরি নির্ভর করে।
প্রস্তাবিত তুলনামূলক তথ্য অনুযায়ী, সুইসপোর্ট প্রায় ৪৪ থেকে ৪৯টি দেশের ৩১০টি বিমানবন্দরে কাজ করে, কর্মীসংখ্যা প্রায় ৪৩ হাজার এবং বছরে প্রায় ৪০ লাখ ফ্লাইট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। ডানাটা ৩৫টি দেশের ১৪৬টি বিমানবন্দর বা স্থাপনায় কাজ করে, কর্মীসংখ্যা ৫৫ হাজারের বেশি। সেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং পাঁচটি দেশের ৬০টির বেশি বিমানবন্দরে কার্যক্রম চালায়, কর্মীসংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। মেনজিস এভিয়েশনের কার্যক্রম ৬৫টি দেশের ৩৪৭টি বিমানবন্দরে, কর্মীসংখ্যা ৬৫ হাজারের বেশি। তবে এসব পরিসংখ্যান বিভিন্ন সময়ের হতে পারে।
মেনজিস এভিয়েশনের সেবার মান নিয়ে অতীতে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটি সমালোচনার মুখে পড়ে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য স্কটসম্যানের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। ট্রাস্টপাইলটে প্রতিষ্ঠানটির রেটিং ৫-এর মধ্যে ১ দশমিক ৫, যদিও অনলাইন রিভিউ সামগ্রিক সেবার চূড়ান্ত পরিমাপক নয়। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের প্রাথমিক শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বায়োসিকিউরিটি আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে দেড় লাখ নিউজিল্যান্ড ডলার জরিমানার নির্দেশ দেন আদালত।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেটর নির্বাচনে বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ও কর্মীসংখ্যার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, লাগেজ সরবরাহের সময়, টার্নঅ্যারাউন্ড দক্ষতা, যাত্রীসেবা ও বিপর্যয় মোকাবিলার সক্ষমতার মতো পরিমাপযোগ্য সূচক বিবেচনায় নিতে হবে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে বড় প্রতিষ্ঠান হলেই সব জায়গায় সমান মানের সেবা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই, তাই সেবার মান পরিমাপের সুনির্দিষ্ট সূচক, নিয়মিত তদারকি এবং শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।