ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের সুপার এল নিনো কি, কিভাবে এটা আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে? গাজায় ট্রাম্পের শান্তি দাবি উড়িয়ে দিয়ে একে ‘লজ্জাজনক’ বললেন ম্যাক্রো তেল ও গ্যাস সাপ্লাই চেইনের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক সহায়তা করতে রাজি আছে বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দম্পতি থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসের ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়ল আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ইসরাইল:শায়খ ইকরিমা সাবরি অপ্রতিম হত্যা মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন: আইফোন ছিনতাই ও পাঁচ হাজার টাকা অব্যবহৃত ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার নয়াদিল্লির একাধিক স্কুলে ইমেইলে বোমা হামলার হুমকি: তল্লাশি অভিযান শুরু সমুদ্রের ১০ মিটার গভীরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনা বিজ্ঞানীদের সাফল্য জাতিসংঘে ভাষণ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন তারেক রহমান ইসরায়েলের কাছে ৬০ হাজার ভারী বোমা বিক্রির চূড়ান্ত প্রস্তুতি ট্রাম্পের খিলক্ষেত থেকে ১২ বছরের শিশু নাঈম নিখোঁজ: অজ্ঞাত ব্যক্তির ফোনকল পরিবারে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেসরকারি খাতে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের পক্ষে রাশিয়ার ও চীনের ভেটো

বাসযোগ্য নগর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে শহুরে বনায়ন

নগর জীবনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ ও সবুজের সংকট মোকাবিলায় শহুরে বনায়নের গুরুত্ব বেড়েছে।
নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২৫-০৯-২০২৬ ০৮:৪৭:৫২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৫-০৯-২০২৬ ০৮:৪৭:৫২ অপরাহ্ন
  • ২ মিনিট পড়ার সময়
  • ২৪ বার পঠিত
বাসযোগ্য নগর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে শহুরে বনায়ন প্রতীকী ছবি- ( সংগৃহীত)

দ্রুত নগরায়নের ফলে বিশ্বের অনেক শহরের মতো বাংলাদেশের শহরগুলোতেও সবুজের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। বহুতল ভবন, সড়ক নির্মাণ এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণের কারণে খোলা জায়গা ও গাছপালার সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ এবং জলাবদ্ধতার মতো সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে শহুরে বনায়ন বা আরবান ফরেস্ট্রি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শহুরে বনায়ন বলতে শহর ও শহরতলির এলাকায় পরিকল্পিতভাবে গাছপালা রোপণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনাকে বোঝায়। এর মধ্যে রাস্তার পাশের বৃক্ষ, পার্ক, উদ্যান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবুজ এলাকা, ছাদবাগান, জলাশয়ের আশপাশের বৃক্ষরাজি এবং অন্যান্য উন্মুক্ত সবুজ স্থান অন্তর্ভুক্ত। নগর এলাকায় পর্যাপ্ত গাছপালা থাকলে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা সহজ হয়।

গাছপালা বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে। ফলে বায়ুর মান উন্নত হতে পারে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর দূষণের নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব হয়।

পর্যাপ্ত গাছপালা ও সবুজ এলাকা থাকলে ছায়া এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে আশপাশের তাপমাত্রা কমানো সম্ভব হয়। এর ফলে গরমের সময় নগরবাসী কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।

শহুরে বনায়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা। গাছপালা ও মাটির সবুজ অংশ বৃষ্টির পানি শোষণ করে এবং পানি প্রবাহের গতি কমিয়ে দেয়। এর ফলে হঠাৎ ভারী বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।

শহরের পার্ক, উদ্যান এবং সবুজ উন্মুক্ত স্থান শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থানে মানুষ হাঁটাচলা, ব্যায়াম এবং অবসর কাটানোর সুযোগ পায়।

এছাড়া শহুরে বনায়ন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখে। শহরের গাছপালা বিভিন্ন পাখি, প্রজাপতি, মৌমাছি এবং ছোট প্রাণীর জন্য আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকাতেও কিছুটা প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে বনায়ন কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনেক শহরে রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ, নতুন পার্ক নির্মাণ, ছাদবাগান সম্প্রসারণ এবং সবুজ অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার ক্ষেত্রেও এসব উদ্যোগকে কার্যকর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশেও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। তবে শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়; লাগানো গাছের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা, সংরক্ষণ এবং পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অপরিকল্পিতভাবে গাছ কেটে ফেলা বা সবুজ এলাকা কমিয়ে ফেলার প্রবণতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

ভবিষ্যতে বাসযোগ্য, স্বাস্থ্যকর ও জলবায়ু সহনশীল শহর গড়ে তুলতে শহুরে বনায়ন খুব গুরুত্বপূর্ণ। জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত চাপ বাড়তে থাকা নগরগুলোকে আরও পরিবেশবান্ধব করতে পরিকল্পিত সবুজায়ন দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।