গতকাল বুধবার এ সংক্রান্ত দেশের একটি দৈনিক পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ তাৎক্ষণিকভাবে ধর্ম সচিব মুন্সী আলা উদ্দিন আজাদকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান। ধর্ম সচিব মুন্সী আলা উদ্দিন আজাদ ইনকিলাবের সচিত্র সংবাদ দেখে হতবাক হন এবং তাৎক্ষণিক তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে চার কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামতসহ তদন্ত প্রতিবেদন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বায়তুল মোকাররম মসজিদের মার্কেটে এসি স্থাপনের নামে উত্তর পাশে অন্যতম স্থাপত্যশৈলী ও সৌন্দর্য বর্ধক তিন/চারটি ঐতিহাসিক আর্চ সম্প্রতি রাতের বেলা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ের প্রভাব খাটিয়ে এবং বর্তমান প্রশাসনিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে সমিতির নেতা ও তার অনুসারীরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক আর্চটিগুলো ভেঙে ফেলেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শর্ত ভঙ্গ করে মসজিদের মূল কাঠামোর ক্ষতি সাধন করে এ কর্মকাণ্ড চালানো হয়। এতে সাধারণ মুসল্লিরা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মার্কেটের দারোয়ানরা হতবাক হন। শুধুমাত্র মূল নকশা ভাঙচুরই নয়, বায়তুল মোকাররম মার্কেটের ব্যবসায়িক নিয়মকানুন ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকির ক্ষেত্রেও এই চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সাধারণ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বায়তুল মোকাররম মার্কেটে সেন্ট্রাল এসি স্থাপনের কথা বলে প্রতিটা দোকান থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা তোলেন। কোনো ধরনের স্বচ্ছতা ব্যতীত রেখে নিজের ইচ্ছামতো এসি স্থাপনের কাজ করছে। কোনো দোকানের ভাড়াটিয়া এই গ্রুপের বিরুদ্ধে কথা বললে তার দোকানের দলবল নিয়ে তাদের কোণঠাসা করে দোকানে তালা লাগিয়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিগত দিনে এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ক্ষুদ্র ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা মার্কেটের মালিক ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিকট অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। এদিকে, বায়তুল মোকাররম মার্কেটের ৩ নম্বর গলিতে এসি স্থাপনের অনুমোদন বাবদ নির্ধারিত সরকারি ফি ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা সমিতির নেতারা দীর্ঘদিন ধরে পরিশোধ করছে না। এর পরেও সরকারি ফি পরিশোধ না করেই পুনরায় ৪ ও ৫ নং গলিতে এসি স্থাপনের তোড়জোড় শুরু করেছে ব্যবসায়ী গ্রুপ। নিরীহ দোকানদাররা ব্যবসায়ী গ্রুপের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে একাধিকবার পাওনা রাজস্ব পরিশোধের তাগিদ দেওয়া হলেও নানা কৌশলে তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
মসজিদ মার্কেটের ইফার শীর্ষ কর্মকর্তা এসব ঘটনা স্বীকার করে ব্যবসায়ী গ্রুপের কাছে অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছেন। রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ বলেন, আমরা কোনো অন্যায়কারীকে কোনো ছাড় দেবো না। তবে আমি আজ মিশনের কোরআন প্রতিযোগিতা এবং পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ব্যস্ত থাকায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের চার কর্মদিবসের পরিবর্তে এক সপ্তাহের বর্ধিত সময় চাইতে হতে পারে।