গত শুক্রবার রাতে ট্রাম্প নিউ ইয়র্কের গার্ডেন সিটির নাসাউ কাউন্টি পুলিশ অ্যাকাডেমির এক সমাবেশে বলেছিলেন, ‘‘ইরান খুব খারাপ ভাবে পরাস্ত হতে চলেছে। কাজ শেষ হলে, খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।’’
ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়ই ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি তাকে সতর্ক করে বললেন যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘রসিকতা’ করার উপযুক্ত জবাব পাবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
হাতামি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে হরমুজ নিয়ে এ ধরনের রসিকতা করা বড় ভুল। কারণ এটি ইরান, এর রক্ষকরা আছে যারা আপনার পা ভেঙে দেবে।”
ইরানের সেনাপ্রধান দাবি করেন যে, মার্কিন বাহিনীকে ‘কার্যত বিতাড়িত করা হয়েছে’। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর কিংবা হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর প্রবেশের সুযোগ এখন আর নেই।
পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরতে দেওয়া হবে না এবং ইরান কখনও তা হতে দেবে না বলেও সতর্ক করেন হাতামি।
ইরান যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর এই প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান।
সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে পাল্টাপাল্টি দাবি করে আসছে।
শুক্রবারই ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তার অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজকে সেখানে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
তবে হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি শনিবারই উড়িয়ে দেয় ইরান সরকার। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম কারিবাবাদি বলেন, ‘‘হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানেরই থাকবে।’’
এবার হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের সেনাপ্রধান হাতামির কঠোর অবস্থানের বার্তা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন সেনা হত্যা বা আটকের জন্য পুরস্কার:
কেবল হরমুজ নিয়ে হুঁশিয়ারিই নয়, মার্কিন সেনাদের হত্যা বা আটক করার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদেরকে কোনও ব্যক্তি হত্যা বা আটক করতে পারলে তাকে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে বলে রোববার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান হাতামি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া বক্তব্যে একথা জানান তিনি। হাতামি আরও জানান, কোনও ‘সাহসী ইরানি নারী’ এ কাজ করতে পারলে তিনি দ্বিগুণ পুরস্কার পাবেন।