মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে কার্যত স্বীকৃতি দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ট্রাম্প ইরানের প্রতিরোধ ফ্রন্টকে মেনে নিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ গোষ্ঠী বা অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স বলতে ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের বিভিন্ন মিলিশিয়া ও পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসকে বোঝানো হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গালিবাফ বলেন, আলোচনার শুরুতে ট্রাম্প ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি, প্রতিরোধ ফ্রন্ট এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরানের অবস্থান পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছিলেন। তবে পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র এসব অবস্থান থেকে সরে আসে বলে দাবি করেন তিনি।
গালিবাফের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ সমঝোতার অংশ হিসেবে ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং এর বিনিময়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের কথা বলেন। এ বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য ইরানের আলোচকদের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
গালিবাফ দাবি করেন, ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের ওই অংশ প্রত্যাহারের জন্য তাকে সতর্ক করার ৫৮ মিনিট পর পোস্টটির দ্বিতীয় অংশ সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরে ইসরাইল বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় হামলা চালানোর পর ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করে বলে জানান গালিবাফ। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরাইল আবার হামলা চালালে ইরান পালটা জবাব দেবে এবং প্রয়োজনে পুরো অঞ্চলে হামলা চালানো হতে পারে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকে যুদ্ধক্ষেত্রের কূটনীতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনার সময় হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছিল।