চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টার ট্রেনযাত্রা কমিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে। এ জন্য চট্টগ্রামের ষোলশহর থেকে দোহাজারী পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার নতুন ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ করা হবে। নতুন লাইনে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানোর উপযোগী করে নকশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ষোলশহর থেকে চন্দনাইশের কাঞ্চননগর পর্যন্ত রেলপথে সর্বোচ্চ অনুমোদিত গতি ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার হলেও ট্রেন চলে ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার গতিতে। কাঞ্চননগর থেকে দোহাজারী পর্যন্ত একই গতিসীমা থাকলেও সেখানে ট্রেনের গতি প্রায় ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। পুরোনো ও আঁকাবাঁকা রেললাইন এর অন্যতম কারণ।
দোহাজারী থেকে কক্সবাজারের আইকনিক স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথে সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের অনুমতি রয়েছে। তবে পাহাড়তলী হয়ে চট্টগ্রাম স্টেশনে গিয়ে ইঞ্জিন ঘুরিয়ে মূল লাইনে ফিরতে অতিরিক্ত প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন জানান, পাহাড়তলী থেকে দোহাজারী পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে ট্রেনের গতি ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে। নতুন রেললাইনের নকশা ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতির উপযোগী করে করা হচ্ছে।
ষোলশহর দোহাজারী ডুয়েল গেজ প্রকল্পের আওতায় নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। চলতি বছরেই প্রকল্পের কাজ শুরুর আশা করছে রেলওয়ে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এই অংশে ট্রেনের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে।
তবে গতি বাড়ানোর পাশাপাশি পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রকৌশলীরা। সম্প্রতি টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে রেললাইনে পানি জমে চট্টগ্রাম কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর আগেও পাহাড়ি ঢলে রেললাইনের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে যথাযথ সাইট সার্ভে ও প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত কাজ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে বন্যা বা পাহাড়ি ঢলের কারণে রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
রেলওয়ের আশা, ২০২৮ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রাম কক্সবাজার রুটের যাত্রীবাহী ট্রেনগুলো আরও বেশি গতিতে চলতে পারবে। মিটার গেজ লাইনে সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার এবং ব্রডগেজ লাইনে সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতির অনুমোদন রয়েছে।