মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে র্যাব সদস্য পরিচয়ে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর প্রায় দেড় কেজি স্বর্ণালংকার লুটের পরিকল্পনার অভিযোগে চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে র্যাবের পোশাক, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফ, খেলনা পিস্তলসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শ্রীনগর উপজেলার হরিবাড়ী ব্রিজের পূর্ব পাশে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। পরে মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুরের ফরহাদ হোসেন (৪০), নওগাঁর নাদিম মাহমুদ শান্ত ওরফে রায়হান হোসেন (৩০), রাজবাড়ীর সার্জেন্ট মিজানুর রহমান (৪১), বরগুনার আব্দুল আলীম (৩২), মাগুরার সাকিবুর জামান মেহেদী (২৬), ভোলার মেহেদী হাসান সুজন (৩৫) এবং বরগুনার মাইক্রোবাসচালক আবু হানিফ (৩২)। তাঁদের মধ্যে নাদিম ও মিজানুর চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য।
পুলিশ সুপার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি মাইক্রোবাস ও একটি মোটরসাইকেলসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তাঁরা র্যাব সদস্য পরিচয়ে শ্রীনগর বাজারের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে আটক করে তাঁর কাছ থেকে প্রায় দেড় কেজি স্বর্ণালংকার লুটের পরিকল্পনা করেছিলেন।
ওই ব্যবসায়ী স্বর্ণালংকার নিয়ে মুন্সিগঞ্জ সদরের দিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন তথ্য পেয়ে চক্রটি তাঁকে লক্ষ্য করে পরিকল্পনা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও আশপাশের এলাকায় একই কৌশলে ডাকাতি করে আসছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে বাস ও মাইক্রোবাসের যাত্রীদের নিজেদের গাড়িতে তুলে মারধর করে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।