জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ যুক্তিতর্ক শেষ করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম। আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান।
মামলাটিতে গত ২৬ জুলাই সাংবাদিক আশরাফ কায়সার সাক্ষ্য দেন। তার জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সময়ের শাসনামলের বিভিন্ন বিষয় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ উঠে আসে। এর আগে ২৭ এপ্রিল মামলার প্রথম দফার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছিল এবং যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়।
তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরে সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তার পুনরায় জবানবন্দিও নেওয়া হয়। এরপর গত ৪ আগস্ট থেকে মামলাটিতে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়।
মামলার সাত আসামির মধ্যে ওবায়দুল কাদের ছাড়াও রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন?
সংশোধিত আসামির তালিকা: ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক।
এর আগে ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় আদালত।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধে নেতাকর্মীদের রাজপথে নামানোর আহ্বান এবং বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনার অভিযোগও আনা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সশস্ত্র হামলা, দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মতো ঘটনাও জড়িত ছিল। এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয় এবং এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে বলে প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে যুক্তি দিয়েছে।
মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় এখন বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপের দিকে এগোচ্ছে ট্রাইব্যুনাল।