রাশিয়ার ন্যাশনাল অ্যান্টি টেররিজম কমিটির তথ্য অনুযায়ী, হাতে তৈরি বিস্ফোরক ডিভাইস বহনকারী এক নারী রেস্তোরাঁয় প্রবেশের চেষ্টা করলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই নারী সম্ভবত একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে পার্সেল পৌঁছে দিতে এসেছিলেন এবং তিনি ভেতরে কী ছিল, সে বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেস্তোরাঁর নিরাপত্তাকর্মী ওই নারীকে প্রবেশে বাধা দেওয়ার পরপরই বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণের সময় রেস্তোরাঁয় রাশিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার উপস্থিত ছিলেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি উঠলেও অতিথিদের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে ক্রেমলিনও কোনো মন্তব্য করেনি।
ইতালিতে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মস্কোর অন্যতম পরিচিত ইতালিয়ান রেস্তোরাঁকে লক্ষ্য করে হামলার মাধ্যমে রাশিয়ায় কর্মরত ইতালীয় নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ঘটনাটি গুরুত্ব পেলেও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ বিস্ফোরণের খবর খুব সীমিতভাবে প্রচার করা হয়েছে। রবিবার সকালের প্রধান সংবাদ বুলেটিনে অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ খবর প্রচারিত হলেও এই বিস্ফোরণের উল্লেখ ছিল না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তেই ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় চারপাশ। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই চলমান রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ ঘটনাকে নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট