ইউক্রেনে বন্দি বাংলাদেশি তরুণ, দেশে ফেরানোর আকুতি
৮ মাস ধরে ইউক্রেনের বন্দিশিবিরে রিমেল, সরকারের সহায়তা চায় পরিবার
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০২-০৮-২০২৬ ১০:১২:৫৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০২-০৮-২০২৬ ১২:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৬৫ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপরহাটী ইউনিয়নের বাসিন্দা রিমেল মিয়া (২২) জীবিকার সন্ধানে রাশিয়ায় গিয়ে পরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে যুদ্ধবন্দি হন। প্রায় আট মাস ধরে তিনি ইউক্রেনের একটি বন্দিশিবিরে রয়েছেন। বিষয়টি সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে জানাজানি হলে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, রিমেল মিয়া ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ নির্মাণশ্রমিক হিসেবে রাশিয়ায় যান। সেখানে প্রথম কয়েক মাস কাজ করে পরিবারের কাছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাঠান। পরে চাকরি হারিয়ে আইনি জটিলতায় পড়লে তিনি রুশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। রিমেলের দাবি, রুশ ভাষায় লেখা চুক্তিপত্রের বিষয়বস্তু তিনি বুঝতে পারেননি। উচ্চ বেতন ও রাশিয়ার নাগরিকত্বের আশ্বাসে চুক্তিতে সই করলেও মাত্র তিন দিনের প্রশিক্ষণ শেষে তাকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।
ডিটেনশন সেন্টার থেকে জুমের মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিমেল জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রায় এক মাস একটি বাংকারে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। বর্তমানে তিনি যুদ্ধবন্দি হিসেবে একটি বন্দিশিবিরে রয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার পরিবার এতদিন জানত না তিনি বেঁচে আছেন কি না। এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে অন্তত তারা তার জীবিত থাকার খবর জানতে পারবেন।
পরিবার জানায়, রিমেল ২০২২ সালে শোভাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও বিদেশ যাওয়ার কারণে পরীক্ষা শেষ করতে পারেননি। সংসারের আর্থিক সংকট কাটাতে বাবার পৈতৃক জমি বিক্রি এবং প্রায় সাত লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি রাশিয়ায় পাড়ি জমান।
রিমেলের বাবা সৈয়দ আলী জানান, প্রায় ১০ থেকে ১১ মাস ধরে ছেলের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না। হঠাৎ একটি ভিডিওর মাধ্যমে জানতে পারেন, ছেলে ইউক্রেনের বন্দিশিবিরে রয়েছে। তিনি বলেন, পরিবারের একমাত্র চাওয়া ছেলেকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা। বর্তমানে তিনি শোভাগঞ্জ বাজারে পান বিক্রি করে সংসার চালান। ছোট ছেলে সৌদি আরব থেকে যে অর্থ পাঠান, তা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে।
মা রেখা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তারা কোনো অর্থ চান না, শুধু ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের সহযোগিতা চান।
রিমেলের চাচাতো বোন সাবিনা বেগম বলেন, অনেক ঋণ করে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল রিমেলকে। এখন তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। প্রতিবেশী আলমগীর হোসেনও সরকারের প্রতি একই দাবি জানান।
এদিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। দেশে ফিরিয়ে আনার সরকারি প্রক্রিয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের যা করণীয়, তা করা হবে বলেও তিনি জানান।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।