পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনকে সংখ্যালঘু ভোটারদের জন্য ‘পরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ৬ অক্টোবরের নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটাররা সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকতে চান কি না, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নন্দীগ্রামে এক সভায় এসব কথা বলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থেকে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে চাইলে ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সংখ্যালঘু ভোটারদের ‘পরীক্ষা’ হবে। এতে তারা পাস করবেন নাকি ফেল করবেন, সেই সিদ্ধান্ত তাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উভয় আসনেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন। নন্দীগ্রাম পূর্ব মেদিনীপুর এবং রেজিনগর মুর্শিদাবাদ জেলায় অবস্থিত। আগামী ৬ অক্টোবর দুই আসনে ভোট হবে এবং ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণা করা হবে।
এই দুটি আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয় শুভেন্দু অধিকারী ও অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ পার্টির (এজেইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবির একটি করে আসন ছেড়ে দেওয়ার পর। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুটি আসনেই জয়ী হন। পরে ভবানীপুর আসন রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। অন্যদিকে হুমায়ুন কবির রেজিনগর ও নওদা থেকে জয়ী হয়ে রেজিনগর আসন ছেড়ে দেন।
নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী করেছে শুভেন্দুর সাবেক সহকারী চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরাণী রথকে। গত ৬ মে চন্দ্রনাথ রথ গুলিতে নিহত হন। তার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত বর্তমানে সিবিআই করছে। রেজিনগরে বিজেপির প্রার্থী করা হয়েছে সাবেক মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি শাখারাও সরকারকে।
শুভেন্দুর বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী পক্ষের নেতারা তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, নির্বাচনকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘুর বিভাজনের বদলে উন্নয়ন ও জনকল্যাণের ভিত্তিতে দেখা উচিত।