বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে রাশিয়ার একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় তারনাওয়া-কলোনিয়া গ্রামে আছড়ে পড়েছে। এই ঘটনার পরপরই পোল্যান্ডসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ন্যাটোর এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং আগাম সতর্কীকরণ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
পোলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির বিস্ফোরণে গ্রামের মাটিতে একটি বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত এতে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা নিশ্চিত করেছেন যে, এটি রাশিয়ার একটি ‘খ-১০১’ (X-101) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। মূলত রাতভর ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার চালানো ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময়ই এই মিসাইলটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পোল্যান্ডে ঢুকে পড়ে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, “এটি রাশিয়ার একটি চরম বেপরোয়া পদক্ষেপ এবং ইউক্রেন যুদ্ধের এক বিপজ্জনক পরিণতি।” পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রোমানিয়া, এস্তোনিয়া ও লাটভিয়ার মতো প্রতিবেশী ন্যাটো দেশগুলোর আকাশসীমাতেও বারবার রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের অনুপ্রবেশ ঘটছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর আশঙ্কা, এই ধরণের ঘটনা যেকোনো সময় ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি বড় কোনো সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোল্যান্ড ইতিমধ্যে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট