কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, তীব্র হচ্ছে নদীভাঙনের ঝুঁকি
পানি কমলেও ভাঙনে আতঙ্কে নদীতীরের বাসিন্দারা
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২৪-০৭-২০২৬ ১১:০১:১৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৪-০৭-২০২৬ ১১:০১:১৬ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১১৩ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি কিছুটা কমলেও বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। গত চার দিন ধরে পানি বাড়ার পর তা কমতে শুরু করলেও প্লাবিত এলাকার দুর্ভোগ রয়ে গেছে। শুক্রবার দুপুরের পর তিস্তা নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করলেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীর পানি ওঠানামার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন আরও তীব্র হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৫
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজারহাটে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি ও সেতু পয়েন্টেও পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের হাতিয়া, চিলমারী ও নুনখাওয়া পয়েন্টে পানি কিছুটা কমলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতিতে তেমন পরিবর্তন আসেনি। নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানিতে নিমজ্জিত এবং অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। নতুন আবাদ করা ফসলও তলিয়ে গেছে।
এদিকে তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদে পানির ওঠানামার প্রভাবে নদীভাঙন উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাচকল এলাকায় প্রায় ৬০ মিটার বাঁধ পুনরায় ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙার রামহরি, খিতাবখা ও বুড়িরহাট বাজার এবং উলিপুর উপজেলার হাতিয়া, দাগারকুটি ও জলাঙরকুটিসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রবল স্রোতে নদীতীর ভেঙে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড অস্থায়ীভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালালেও তা কার্যকর হচ্ছে না।
সদর উপজেলার মোগলবাসা এলাকার বাসিন্দা কুদরত আলী জানান, নয়ার চর থেকে নৌকায় এপারে আসতে হয়। মোগলবাসায় ভাঙন প্রতিরোধে কাজ হলেও নয়ারহাট এলাকায় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। সেখানে স্থায়ীভাবে বোল্ডার ফেলে ভাঙন রোধের দাবি জানান তিনি।
চিলমারী উপজেলার কাচকল এলাকার বাসিন্দা জলিল মিয়া বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে বাঁধের সড়কে তিনবার ভাঙন দেখা দিয়েছে। জিওব্যাগ ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে বসতবাড়ি হারিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়বেন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, নদীর পানি ওঠানামার কারণে বর্তমানে জেলার ৩৮টি স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। কাচকল এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করা হলেও পুনরায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, শুকনো মৌসুমে এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।