ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ , ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) , ৩০ সফর ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
নিঝুম দ্বীপের বালুতে মিলল মূল্যবান ভারী খনিজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর উন্মুক্ত হলো বান্দরবানের পর্যটন স্পট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ জরুরি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে আট কার্গো এলএনজিসহ চার প্রস্তাবের অনুমোদন ঢাবির শেখ মুজিবুর রহমান হলের দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক সিট বাতিল যুদ্ধোত্তর আফগানিস্তানে পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির চিত্র গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে, বেড়েছে লোডশেডিং পানামা খালে লাইন ভাঙতে এক জাহাজেরই খরচ হলো ৪০ লাখ ডলার ফেনীতে ৮ মাসে চুরি শতাধিক ট্রান্সফরমার, বাড়ছে সংকট কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর দফায় দফায় আফটারশক ইরানের নতুন নিরাপত্তাপ্রধান কে এই মহসেন রেজাই? মানবিকে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী ফেল, বিজ্ঞানে পাসের হার ৮০ শতাংশের ব ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এসএসসি পাসের হার এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ সৌদি আরব আগুন ১৭ জনের মৃত্যু: ৭ জনই নওগাঁর আত্রাইয়ের ৪২ ঋণখেলাপীর অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক ৮ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে কাল থেকে চালু হচ্ছে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন গ্রামের মানুষকে শহরমুখী হতে হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুই দেশের সরকারপ্রধান একসঙ্গে বসলে সমস্যার সমাধান সম্ভব: হাইকমিশনার নাজিরগঞ্জে অনুমতি ছাড়াই চলছে অবৈধ খেয়া নৌকা টোল আদায়

১৪ বছরের গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতন: মানবাধিকারকর্মী মোস্তাকিন শরীফ ও স্ত্রীকে ৭ বছরের কারাদণ্ড

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২৮-০৬-২০২৬ ১১:২৮:৫৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৮-০৬-২০২৬ ১১:২৮:৫৪ অপরাহ্ন
  • ২ মিনিট পড়ার সময়
  • ৩৮ বার পঠিত
১৪ বছরের গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতন: মানবাধিকারকর্মী মোস্তাকিন শরীফ ও স্ত্রীকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী গৃহকর্মীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে চালানো নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় মানবাধিকারকর্মী মোস্তাকিন শরীফ ও তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল নাঈমাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
 

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে কিশোরী হাওয়া আক্তার ওই দম্পতির বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, কাজে সামান্য ভুল হলেই তাঁকে নিয়মিত মারধর, গালাগাল এবং ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। লোহার খুন্তি, গরম রড ও গরম চাকু দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। নির্যাতনের পর ক্ষতস্থানে মরিচের গুঁড়ো লাগিয়ে আরও তীব্র যন্ত্রণা দেওয়া হতো। এমনকি গ্যাসের আগুনে তাঁর চুলও পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
 

তদন্তে আরও উঠে আসে, নির্যাতনের সময় একজন তাঁকে ধরে রাখতেন এবং অন্যজন মারধর করতেন। ব্যথায় কিশোরী কান্নাকাটি করলে আসামিরা হাসাহাসি করতেন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও দিতেন না। টানা কয়েক মাসের এই অমানবিক নির্যাতনের ফলে তাঁর শরীর গুরুতরভাবে ক্ষতবিক্ষত হয় এবং তিনি স্থায়ী শারীরিক ক্ষতির শিকার হন।
 

২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর পুলিশ দক্ষিণ বনশ্রীর একটি বাসা থেকে তাঁকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২২ সালে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় এবং বিচার চলাকালে মোট ৯ জন সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রবিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এই রায় ঘোষণা করেন।
 

এই রায় শিশু ও গৃহকর্মীদের প্রতি নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশু সুরক্ষা, মানবাধিকার এবং গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৬

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।