অবৈধ সিগারেট ও তামাকপণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়াতে তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কারভিত্তিক একটি হুইসেলব্লোয়ার ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) তথ্য প্রদান করলে তা যাচাই-বাছাইয়ের পর তথ্যদাতাকে পুরস্কৃত করা হবে বলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অবৈধ তামাকপণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণ রোধে বেশ কিছু নতুন বিধান কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ প্রযুক্তি চালু করা, যার মাধ্যমে তামাকপণ্যের উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া নজরদারির আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি উৎপাদন কারখানায় কাউন্টিং ডিভাইস এবং আধুনিক এআই-ভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বাজেট প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, সিগারেটের স্ট্যাম্পে কিউআর কোড বা এআর কোড যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে পণ্যের বৈধতা সহজে যাচাই করা যায়। একই সঙ্গে বাজার তদারকি জোরদারে একটি মোবাইল অ্যাপ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকরা অবৈধ সিগারেট সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি এনবিআরকে জানাতে পারবেন।
তামাকপণ্যের কাঁচামাল ব্যবস্থাপনাতেও নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় শুধু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সিগারেট ও বিড়ি তৈরির কাগজ আমদানি করতে পারবে এবং এসব কাঁচামাল কেবল নিবন্ধিত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছেই বিক্রি করা যাবে।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী সামগ্রিক ব্যয়ের চিত্রও তুলে ধরেন। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট