দ্বিতীয় স্ত্রীর সম্পর্কের সন্দেহে সোহেল হত্যা, চারজন গ্রেপ্তার
নিখোঁজের ছয় দিন পর উদ্ধার হওয়া মরদেহের ঘটনায় পুলিশের তদন্তে নতুন তথ্য
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২৬-০৭-২০২৬ ০৯:৩১:৫৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৬-০৭-২০২৬ ০৯:৩১:৫৫ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৪৭ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহে নিখোঁজের ছয় দিন পর মাথাবিচ্ছিন্ন ও অর্ধগলিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সোহেল সরকার (২৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সোহেলের সম্পর্ক রয়েছে এমন সন্দেহ থেকেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৫
জেলা পুলিশ জানায়, রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার মীরকান্দাপাড়া গ্রামের মো. সেলিম মিয়া (৩০), আবদুল কাদির ওরফে আল আমিন (২৫), মো. সেলিম ওরফে নাপিত সেলিম (৩২) এবং লাল চাঁন ওরফে লালু (২৬)।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত সেলিম তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে নিহত সোহেলের সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন। সেই সন্দেহ থেকেই পরিকল্পনা করে সোহেলকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের যৌথ দল ময়মনসিংহ সদর, ভালুকা ও মীরকান্দাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা, কোদাল, রক্তমাখা পোশাক এবং একটি স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১৬ জুলাই রাত সাড়ে আটটার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন সোহেল সরকার। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর ২২ জুলাই বিকেলে অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয় মাঠসংলগ্ন একটি বাগান থেকে একটি বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে একই এলাকার অন্য একটি স্থান থেকে মাটিচাপা দেওয়া মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হলে পরনের পোশাক দেখে পরিবারের সদস্যরা সেটিকে সোহেলের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত শনিবার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা ও আলামত গুমের অভিযোগে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে শনিবার রাতেই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান অভিযুক্ত সেলিম জানিয়েছেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সোহেল গত তিন মাস ধরে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন বলে তিনি জানতে পারেন।
নিহত সোহেলের বোনের ভাশুর হওয়ায় সেলিম কৌশলে সোহেলকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে ডেকে আনেন। পরে সহযোগীদের নিয়ে তাকে হত্যা করে মরদেহের মাথা ও দেহ আলাদা করে মাটিচাপা দেন বলে পুলিশের দাবি।
নিহত সোহেলের বোনের ভাশুর হওয়ায় সেলিম কৌশলে সোহেলকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে ডেকে আনেন। পরে সহযোগীদের নিয়ে তাকে হত্যা করে মরদেহের মাথা ও দেহ আলাদা করে মাটিচাপা দেন বলে পুলিশের দাবি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।