মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক হামলার পর এবার জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার দাবি করেছে তেহরান।
জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ডন নিউজ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আল-আজরাক এলাকার দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ জর্ডানের ভূখণ্ডে পড়ে। যদিও এতে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সামরিক সূত্রগুলো।
অন্যদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সম্ভাব্য শত্রু লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও প্রতিহত করার কাজে সক্রিয় রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় কুয়েতের জেনারেল স্টাফ জানায়, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বলা হয়, হামলায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের অবস্থান এবং একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।
এর আগে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালির কাছে তাদের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হামলার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকিকে জবাব ছাড়া রাখবে না। একই সঙ্গে তিনি বিদেশি বাহিনীকে অঞ্চল ত্যাগ করারও সতর্কবার্তা দেন।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে টহলরত একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া জানানো অনিবার্য ছিল।
তবে ওয়াশিংটনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক হামলা চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে নয়; বরং এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই পরিচালিত হয়েছে।
মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টা আঘাত ইরানের, জর্ডান-কুয়েতে সর্বোচ্চ সতর্কতা
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১০-০৬-২০২৬ ১১:২৮:৩১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-০৬-২০২৬ ১১:২৮:৩১ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৯ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর
ডেস্ক রিপোর্ট