গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত এই মেট্রোরেলের মোট দৈঘ্য ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। এই পথে গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজগেট, আসাদগেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও ও আফতাবনগর হয়ে চলবে রেল।
এই মেট্রোরেলের সবচেয়ে বড় আলোচনার জায়গা এর খরচ। প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। উত্তরা-মতিঝিল রুটে মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ছিলো ১ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা। আর এই প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ধরা হচ্ছে ২ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ বাড়তি খরচ হবে। প্রকল্পটিতে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকারও বেশি ঋণ আসবে এডিবি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ থেকে। যে ঋণ পরিশোধ করতে হবে ২০৬৭ সাল পর্যন্ত।
গাবতলী থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে পাতালপথ। টানেল যাবে মাটির প্রায় ১৬ থেকে ৩৮ মিটার গভীরে। নির্মাণ হবে ১১টি পাতাল স্টেশন। ব্যবহার করা হবে ‘কাট অ্যান্ড কভার’ পদ্ধতি। ফলে নির্মাণকাজের সময় রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে তৈরি হতে পারে বাড়তি চাপ।
প্রকল্পটির সম্ভাব্য সুফলের হিসাবও বড়। ডিএমটিসিএলের হিসাবে, মেট্রোরেল চালু হলে বছরে প্রায় ২১ কোটি ৪৯ লাখ কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। জ্বালানি সাশ্রয় হবে প্রায় ৪১ হাজার ২২০ টন। কমবে যানবাহনের চলাচলের দূরত্ব। আর বছরে কার্বন নিঃসরণ কমতে পারে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার টন।
২০৩৩ সালের প্রথমে এই লাইনে ছয় কোচের ১৯ সেট ট্রেন চলবে। আর ২০৪০ সাল থেকে চালুর পরিকল্পনা আট কোচের ট্রেন। প্রতি ট্রেনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩১২ জন যাত্রী পরিবহন করা যাবে।
বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। একনেকের অনুমোদন মিললেই শুরু হবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া।