বর্তমানে সংকট সৃষ্টির পূর্বের স্বাভাবিক সময়ের দৈনিক গড়ে ৭০টি জাহাজের বিপরীতে বাব আল-মান্দেব দিয়ে মাত্র ছাব্বিশটির মতো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সমুদ্র বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক প্রাকযুদ্ধের দামামা বাজিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আরব উপদ্বীপের দেশগুলোকে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা সেবা গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন।
লেবানন ভিত্তিক সংবাদপত্র আল-আখবারের সম্পাদক ইব্রাহিম আল-আমিনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, নেতানিয়াহু দেশটির সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহকে ইরান ও হিজবুল্লাহর পাশাপাশি হুতির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যে কোনো বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মোখা বন্দরসহ লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে হুতি নিয়ন্ত্রণ তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়েছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও নৌবাহিনী বাব আল-মান্দেব সংলগ্ন অঞ্চলে তাদের নৌ-তৎপরতা বহুগুণ বাড়াতে বাধ্য হতে পারে বলে জানিয়েছে হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলো।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি আরবও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মধ্যস্থতায় পরোক্ষভাবে ইসরায়েলসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছে নিরাপত্তা সহায়তার আবেদন পাঠিয়েছে বলে ইসরায়েল হাইয়োম সংবাদপত্রের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই নিরাপত্তা সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল সরাসরি সামরিক যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক ও ধীরনীতি অবলম্বন করছে। সামরিক বিশ্লেষক জোয়েল গুজানস্কির মতে, ইরান, হুতি এবং ইরাকের প্রতিরোধ যোদ্ধা দলগুলোর সমন্বিত চাপের কারণে রিয়াদ ও তেল আবিবের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোন প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একটি গোপন বা নীরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তার মেলবন্ধন তৈরি হতে পারে। কিন্তু ইসরায়েল সরাসরি সামরিক বিমান বা নৌ হামলা চালালে হুতি ফের ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা শুরু করতে পারে; এমন আশঙ্কা থেকেই সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে দেশটি।
এদিকে ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রে হুতি ও দেশটির সরকারি বাহিনীর মধ্যকার সহিংসতায় এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন এবং এর ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতায় প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বহু ইয়েমেনি প্রাণ বাঁচাতে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র জিবুতিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।