মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে নিয়ে ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য: বিরোধী দলের দুই শীর্ষনেত
তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এ রাজা ও পি কে সেকর বাবুর বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৫-০৯-২০২৬ ০৯:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-০৯-২০২৬ ০৯:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১১৯ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক এক দলীয় বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে বিতর্কিত ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে বিধানসভার প্রধান বিরোধী দল ডিএমকে-র দুই শীর্ষনেতা এ রাজা ও পি কে শেখর বাবুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে রাজ্য পুলিশ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৩
দলটির উপ-সাধারণ সম্পাদক এ রাজা এবং সাবেক মন্ত্রী শেখর বাবু ছাড়াও রাজ্য বিধানসভার সদস্য বসন্তম কার্তিকেয়ানের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে মঙ্গলবার এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চেন্নাইয়ের বি-১ নর্থ বিচ থানায় ডিএমকে-র হারবার এলাকার বিধায়ক তথা চেন্নাই পূর্ব জেলা সম্পাদক পি কে শেখর বাবুর বিরুদ্ধে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। দলের সাম্প্রতিক এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তিনি মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে লক্ষ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে, যার পরিপ্রেক্ষিতেই এই পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সাঈদাপেট থানা পুলিশ ডিএমকে নেতা এ রাজার বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করেছে। তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) দলের সংগঠক কার্তিক অভিযোগ দায়ের করে জানান, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া এক বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে আয়োজিত দলীয় বিক্ষোভে অংশ নিয়ে শক্তিসম্পদ ও আইনমন্ত্রী আর নির্মল কুমারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কটু কথা বলেন এ রাজা।
তবে এই পুলিশি পদক্ষেপের মুখে দাঁড়িয়েও শাসক দল টিভিকে-কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এ রাজা। তিনি দাবি করেন, স্বৈরাচারী জরুরি অবস্থার সময় ডিএমকে সভাপতি এম কে স্টালিনের অবদান এবং ‘মিছা’ আইনে তার গ্রেফতারের কথা কংগ্রেস ও বিজেপির মতো জাতীয় স্তরের শীর্ষনেতারাও স্বীকার করেছেন।
এদিকে রাজ্যের ঋষিভান্দিয়াম আসনের ডিএমকে বিধায়ক বসন্তম কার্তিকেয়ানের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে পৃথক মামলা দায়ের করেছে কাল্লাকুরিচি থানা পুলিশ। সম্প্রতি তামিলনাড়ু বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় ডিএমকে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ তুলতে গিয়ে ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় স্টালিনের ‘মিছা’ আইনে গ্রেফতার হওয়া নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। শুধু প্রশ্ন তোলাই নয়, তিনি স্টালিনের শারীরিক হাবভাব নিয়ে কটাক্ষ করে চোয়াল বাঁকানোর ভঙ্গি করেন। এতে বিধানসভার ভেতরেই তীব্র ক্ষোভ ও বিরোধিতায় ফেটে পড়েন ডিএমকে সদস্যরা।
পরবর্তী সময়ে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ুজুড়ে রাজ্যব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেয় ডিএমকে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সেই মন্তব্যের সপক্ষে শক্ত অবস্থান নেন রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ ও আইনমন্ত্রী আর নির্মল কুমার। মাদুরাইয়ের ঐতিহাসিক মীনাক্ষী আম্মান মন্দিরের পুনঃপ্রতিষ্ঠা উৎসবের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে দাবি করেন, স্টালিন যে ‘মিছা’ আইনে আটক হয়েছিলেন, তার সপক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক নথিপত্র বা আটকাদেশের কপি অস্তিত্বেই নেই।
আইনমন্ত্রী আরও মন্তব্য করেন, যে কাউকে এ ধরনের কঠোর আইনে গ্রেফতার করা হলে তার একটি আনুষ্ঠানিক আইনি নির্দেশনামা থাকে। ডিএমকে বা স্টালিন কি তা দেখাতে পারবেন? অবাস্তব ঐতিহাসিক দাবির ওপর ভিত্তি করে স্টালিনকে রাজনৈতিক শহীদ বানানোর যে চেষ্টা চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই ঐতিহাসিক সত্যের মুখোমুখি হতে না পেরেই ডিএমকে এখন অনর্থক হইচই ও অতিপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।
সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ও পাল্টাপাল্টি আইনি ব্যবস্থার কারণে বর্তমানে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গন মারাত্মকভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।