বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত ২৭ বছর বয়সী কাসিম এবং ২৯ বছর বয়সী সুলাইমান জানিয়েছেন, গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা তাদের বাবার সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগের সুযোগ পাননি। ২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী থাকা ইমরান খানের চোখের মারাত্মক অসুস্থতা ও উচ্চ রক্তচাপ সত্ত্বেও তাকে ব্যক্তিগত চিকিৎসক বা আদালতের নির্দেশিত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, মাত্র ৬ বাই ৮ ফুটের একটি ছোট নির্জন কক্ষে আলো-বাতাসহীন অবস্থায় রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে তাঁর সঙ্গে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হচ্ছে, যা স্পষ্টত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।
দুই ভাইয়ের মতে, সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সাথে ইমরান খানের তিক্ততার ইতিহাস নতুন নয়। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ইমরান খান আসিম মুনিরকে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজি-আইএসআই প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। ২০২২ সালে মুনির সেনাপ্রধান হওয়ার পর থেকেই ইমরান খানের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো নিরপেক্ষ চিকিৎসককে দিয়ে এখনও পর্যন্ত ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ডান চোখের রেটিনাল ভেইনে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে ৭০-৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কোনো বেসরকারি হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা না দিয়ে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে কয়েকটি ইনজেকশন দিয়েই পুনরায় কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ডের ক্রিকেট সিরিজের সময় স্কাই স্পোর্টসে দুই ভাইয়ের সাক্ষাৎকার প্রচারের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় পাকিস্তান সরকার ও ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তান দল মধ্যাহ্নভোজের পর মাঠে নামতে অস্বীকৃতি জানায় এবং পিসিবি স্কাই স্পোর্টসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তোলে। সুলাইমান খান এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সরকারের এমন প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে তারা দেশের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের মতোই বহির্বিশ্বের স্বাধীন গণমাধ্যমকেও দমিয়ে রাখতে চায়।
আন্তর্জাতিক স্তরেও ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি ও কারাবাস নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট অধিনায়করা ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের কাছে ইমরান খানের সঠিক সুচিকিৎসা ও সুপ্রিম কোর্টের আদেশ বহাল রাখার দাবি জানিয়ে খোলা চিঠি দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সাতজন অধিনায়ক মানবাধিকারের খাতিরে এ বিষয়ে তাঁদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও চেয়েছেন।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের তরফ থেকে এ সব অভিযোগকে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বন্দি ইমরান খানকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়নি বরং তাকে পর্যাপ্ত গৃহজাত খাবার, ব্যায়ামের সরঞ্জাম, বোতলজাত পানি এবং নিয়মিত ডাক্তারদের নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
কিন্তু ইমরান খানের পরিবার ও দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকারের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে মনে করছে। পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আদালত অবমাননার মামলা করা হয়েছে এবং তার মুক্তির দাবিতে সেপ্টেম্বরের শেষভাগে পাকিস্তানজুড়ে বড় ধরনের গণমিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। কাসিম ও সুলাইমান খান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের পাকিস্তানের রাজনীতিতে আসার কোনো ইচ্ছা নেই কিন্তু নিজেদের বাবার জীবন রক্ষা করা এবং তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত করাই এই মুহূর্তে তাদের একমাত্র লক্ষ্য।