ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের পর ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব এক বৈঠকেই সমাধান হয়ে শান্তিচুক্তি হবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত ছিল না। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, শুরু থেকেই কোনো পক্ষই একক বৈঠকে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করেনি।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, বহু বছর ধরে চলা উত্তেজনা ও অবিশ্বাসের প্রেক্ষাপটে একটি বৈঠকে চুক্তি হওয়া সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান, প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির পর এই আলোচনা হয়েছে, যা স্বাভাবিকভাবেই জটিল ও সংবেদনশীল ছিল। এ অবস্থায় দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।
এর আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, আলোচনার সফলতা নির্ভর করছে প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা, অতিরিক্ত শর্ত পরিহার এবং ইরানের ন্যায্য অধিকার স্বীকার করার ওপর।
‘ইসলামাবাদ টকস’ নামে পরিচিত এই বৈঠকটি শনিবার থেকে শুরু হয়ে রোববার পর্যন্ত চলে। আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় উঠে এলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনা অব্যাহত থাকাটা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অগ্রগতির জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।