দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকার বেশি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কাজাখস্তানভিত্তিক Kazakh Gas Processing Plant LLP থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৫০ পিপিএম সালফার মানের ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হবে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৮৯ কোটি টাকার সমপরিমাণ।
এছাড়া সিঙ্গাপুরভিত্তিক Aramco Trading Singapore Pte Ltd থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য ১৯ ডলারের কিছু বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে মোট ব্যয় প্রায় ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে চূড়ান্ত ব্যয় ভিন্ন হতে পারে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন দেশের জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা করে থাকে। সাধারণত মোট জ্বালানির অর্ধেক সরকার-টু-সরকার চুক্তির মাধ্যমে এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী-তে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর পাশাপাশি কিছু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়মতো সরবরাহে অপারগতা জানিয়ে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করায় সরবরাহ শৃঙ্খলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিকল্প উৎস থেকে দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার জরুরি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট