সাম্প্রতিক তারল্য সংকট কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা, গুজব বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ব্যাংকটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের তারল্য সহায়তা পাওয়ার পর আর্থিক কার্যক্রম ক্রমান্বয়ে স্থিতিশীল হচ্ছে এবং গ্রাহকদের লেনদেনও স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত করার যেকোনো চেষ্টা আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হুসাইন বলেন, ব্যাংকটির সার্বিক পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। আমানত জমার প্রবণতা বাড়ছে এবং গ্রাহকদের একযোগে অর্থ উত্তোলনের চাপও আগের তুলনায় কমেছে। তিনি জানান, ব্যাংককে ঘিরে যেন কোনো বিভ্রান্তি বা অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়, সেজন্যই এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে তারল্য সংকট এবং নানা গুজবের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। এর প্রভাবে অনেক গ্রাহক একসঙ্গে আমানত তুলে নেওয়ায় ব্যাংকের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের প্রথম নয় দিনে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা আমানত তুলে নেওয়া হয়।
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ হিসাব বলছে, জুনের প্রথম সপ্তাহেই ৪ হাজার ২০৪ কোটি টাকা আমানত কমে যায় এবং পরবর্তী দুই দিনে আরও প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। এর ফলে কয়েকটি শাখা ও এটিএম বুথে নগদ অর্থের সংকট দেখা দেয়।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানানো হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের নজরদারি ও সহায়তা অব্যাহত থাকলে ইসলামী ব্যাংক দ্রুতই পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারবে।
ডেস্ক রিপোর্ট