আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা জোরদার করা, সিএমএসএফকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও কার্যকর সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা এবং অব্যবহৃত নগদ লভ্যাংশ, শেয়ার ও অন্যান্য আর্থিক সম্পদের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
খসড়া আইনে সিএমএসএফকে একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক কাঠামো, পরিচালনা, তদারকি ও জবাবদিহিকে সুস্পষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকা নগদ লভ্যাংশ, বোনাস শেয়ার, রাইটস শেয়ার, রিফান্ড অর্থ, আইপিও এবং কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফারের অনাদায়ী অর্থসহ বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ সিএমএসএফের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা করা হবে। তবে প্রকৃত মালিক বা উত্তরাধিকারীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দাবি উত্থাপন করলে যাচাই শেষে তাদের সম্পদ ফেরত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
আইনে একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান, কমিশনের প্রতিনিধি, আর্থিক ও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং স্বতন্ত্র সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ফান্ডের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সিএমএসএফের অর্থ পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং কমিশনের অনুমোদনক্রমে নিরাপদ ও অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করা যাবে। পাশাপাশি নিরীক্ষা, হিসাব সংরক্ষণ, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হবে। বিধান লঙ্ঘন, তথ্য গোপন, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান বা ফান্ড সংশ্লিষ্ট সম্পদের অপব্যবহারের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড বিধিমালা, ২০২১ রহিত করে নতুন আইন কার্যকরের প্রস্তাব করা হয়েছে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনটি কার্যকর হলে সিএমএসএফ দেশের পুঁজিবাজারে একটি আধুনিক নগদ লভ্যাংশ বিতরণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারবে। এতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নগদ লভ্যাংশ বিতরণ আরও ডিজিটাল, স্বচ্ছ ও কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার আওতায় আসবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা একটি অর্থবছরে প্রাপ্ত লভ্যাংশের ওপর উৎসে কর্তন করা করের চালান ও কর কর্তন সনদ একক প্ল্যাটফর্ম থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন, ফলে করসংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে।
এ বিষয়ে সিএমএসএফের অপারেশন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওয়াসি আজম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, প্রস্তাবিত আইন বাস্তবায়িত হলে সিএমএসএফ আধুনিক নগদ লভ্যাংশ বিতরণ কেন্দ্র হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এতে লভ্যাংশ বিতরণ প্রক্রিয়া আরও ডিজিটাল, স্বচ্ছ ও কেন্দ্রীভূত হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা উৎসে কর্তন করা করের চালান ও কর কর্তন সনদ একক প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়ার সুযোগ পাবেন, যা করসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সহজ করবে এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।
ডেস্ক রিপোর্ট