জুলাই আন্দোলন দমন অভিযানে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ কর্মকর্তাদের একটি অংশ এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত রয়েছেন বলে একটি সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনের সময় দায়িত্বে থাকা ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপার পর্যায়ের মোট ১১৬ কর্মকর্তার মধ্যে ৪১ জন বর্তমানে বিভিন্ন ইউনিটে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। এ নিয়ে আন্দোলনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় মেট্রোপলিটন পুলিশ, রেঞ্জ পুলিশ ও জেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী ১১৬ কর্মকর্তার মধ্যে ৪১ জন বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্বে রয়েছেন। অন্যদিকে ১৭ জনকে অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং ৫৭ জনকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে অবসর, বরখাস্ত বা অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া বিদেশে অবস্থানকারী কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে দায়িত্ব পালনকারী ৭৭ জন পুলিশ সুপারের ৩৫ জন বর্তমানে বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্বে রয়েছেন। অর্থাৎ ওই সময় দায়িত্বে থাকা প্রায় ৪৫ শতাংশ এসপি এখনো স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে ৪২ জন এসপির বিরুদ্ধে বরখাস্ত, সংযুক্তকরণসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে পলাতক কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত দুই বছরে আটটি মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং আটটি রেঞ্জের ডিআইজির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আট কমিশনার ও ছয় ডিআইজিকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তিন ডিআইজি এবং একজন কমিশনারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে আন্দোলনের সময় বিভিন্ন রেঞ্জে কর্মরত ২১ জন অতিরিক্ত ডিআইজির মধ্যে ছয়জন এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অন্যদের বিভিন্ন দপ্তরে সংযুক্ত রাখা হয়েছে এবং কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে কর্মরত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বর্তমান কর্মস্থলের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ পুলিশ সদর দপ্তর, এপিবিএন, সিআইডি, পিবিআই, নৌ পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, পুলিশ একাডেমি সারদা এবং অন্যান্য ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত আইজিপি একেএম আওলাদ হোসেন বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারকে সহায়তায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট