বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়া দিল্লি সফর নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির কর্মকর্তাদের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপড়েনের পর সফরটি নভেম্বরের কোনো এক সময়ে আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ চলছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। তবে সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরের কর্মসূচি ও আলোচ্যসূচি নিয়েও কাজ চলছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্বাভাবিক করা এবং গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় সফরের আলোচনায় আসতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে টানাপড়েন তৈরি হয়। ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকার অনুরোধ এবং দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়গুলোও সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে রয়েছে।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৬তম জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই শুভেচ্ছার জবাবে মোদীও তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান।
নভেম্বরে দিল্লি সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ একাধিক কূটনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এসব কর্মসূচির মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে দিল্লি সফরের সময় নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ভারতে নিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে দ্য হিন্দু।
এর আগে ভারতের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ১৫ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, এ সফর নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নতুন কোনো তথ্য তারা পাননি। একই সঙ্গে তিনি জানান, তারেক রহমানকে একটি দ্বিপক্ষীয় সফর এবং আলাদাভাবে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আমন্ত্রণটি সরাসরি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে নয়, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ-ভারত রাজনৈতিক যোগাযোগের অতীত প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা তৈরি হলেও বিএনপির সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ পুরোপুরি নতুন নয়। ২০১৮ সালে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদলও নয়া দিল্লি সফর করেছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতাদের ভারত সফর এবং দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ ছিল। বর্তমানে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে ঘিরে ফের দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় আলোচনায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।