নেত্রকোনার বারহাট্টায় কৃষকের রোপণ করা ধানখেতে ট্রাক্টর চালিয়ে ফসল নষ্ট করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। পরে ওই জমিতে নতুন করে ধান রোপণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জমির মালিক সাবিনা রহমান থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের সোনাউল্লারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিকেলে বারহাট্টা থানায় অভিযোগ করেন সাবিনা রহমান।
অভিযোগে সাবিনা রহমান বলেন, ২০২২ সালে খতিয়ান নম্বর ১৩১২, এসএ দাগ নম্বর ২২৯৫ ও বিআরএস দাগ নম্বর ৪৫০৯-এর ১৬ শতাংশ জমি তিনি সাবকবলা দলিলের মাধ্যমে কেনেন। এরপর থেকে তিনি জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। তিনি ঢাকায় থাকায় তার বোন ও ভাগিনা সেখানে চাষাবাদ করেন। সম্প্রতি জমিতে ধান রোপণ করা হয়।
সাবিনার অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রহিছ মিয়া, তার স্ত্রী রহিমা আক্তার, ছেলে জিবন মিয়া, সুমন মিয়া ও সাজ্জাদ মিয়াসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমিতে যান। পরে জমির প্রায় অর্ধেক অংশে রোপণ করা ধানের ওপর ট্রাক্টর চালিয়ে হালচাষ করা হয়। এতে ধান নষ্ট হয়ে যায়। পরে ওই অংশে নতুন করে ধান রোপণ করে জমি দখলে নেওয়া হয়। বাধা দিলে তাকে ও তার স্বজনদের খুন ও জখমের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় গ্রাম কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, সাবিনা কাগজপত্রের ভিত্তিতে জমিটি কিনে ধান রোপণ করেছিলেন। তবে রহিছ মিয়া তার স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে খারিজ করিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করছিলেন। প্রায় এক মাস আগে স্থানীয় সালিশে সাবিনাকে রোপণ করা ধান কাটার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে রহিমা আক্তার বলেন, খারিজের মাধ্যমে তিনি জমিটির মালিক হয়েছেন। তাই তিনি সেখানে নতুন করে ধান রোপণ করেছেন। স্থানীয় সালিশের সিদ্ধান্ত তিনি মানেন না।
সিংধা ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা উজ্জ্বল দত্ত বলেন, ওই জমির খতিয়ানে গরমিল রয়েছে। অন্যদিকে বারহাট্টার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজেদুল ইসলাম জানান, খারিজ ভুয়া প্রমাণিত হলে তা বাতিল করা হবে। তহশিলদারের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বারহাট্টা থানার ওসি চম্পক দাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করবে এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।