তিতাসের নতুন কূপে বাড়ছে গ্যাস, গ্রিডে যোগ হবে ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট
তিতাস-বাখরাবাদের পাঁচ কূপ থেকে ৩-৪ মাসে সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা
- আপলোড সময় : ১৮-০৯-২০২৬ ০৩:৩৬:১৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৮-০৯-২০২৬ ০৩:৩৬:১৯ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১১৫ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আগামীকাল জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। পাশাপাশি তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের আরও চারটি কূপের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব কূপ চালু হলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে মোট প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন কূপ খনন ও বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়নকাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতার চাপ কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিজিএফসিএলের কর্মকর্তারা জানান, তিতাস-২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ এবং বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপের কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। সব কূপের কাজ শেষ হলে দৈনিক প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, তিতাস-২৮ নম্বর কূপটি আগামীকাল উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনের পরপরই কূপটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।
‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম জসীম উদ্দিন জানান, তিতাস-২৮ কূপের খননকাজ প্রায় এক মাস আগে শেষ হয়েছে। কূপটির গভীরতা প্রায় ১৩ হাজার ফুট। প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাস-২৮, ২৯, ৩০ ও কামতা-২ নম্বর কূপ খননের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে তিতাস-২৮ উৎপাদনে যাচ্ছে, আর অন্য কূপগুলোর কাজও দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজিএফসিএলের গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, তিতাস-৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজ চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল শুরু হয়েছে। কূপটির খনন গভীরতা ইতোমধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৯২০ মিটারে পৌঁছেছে। এর লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৫ হাজার ৬০০ মিটার, যা প্রায় ১০০ মিটার কমবেশি হতে পারে।
গভীরতার কারণে তিতাস-৩১-এর খনন ও পরবর্তী কার্যক্রমে তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে। ভূতাত্ত্বিক কোনো জটিলতা না হলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কূপটি সফল হলে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।
তিতাস-২৯ নম্বর কূপের মূল খননকাজও শেষ হয়েছে। বর্তমানে লগিংসহ আনুষঙ্গিক কাজ চলছে। এসব কাজ শেষ করে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কূপটি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে তিতাস-৩০ নম্বর কূপের কাজ আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। কূপটি থেকে দৈনিক প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বিজিএফসিএল।
তিতাস-৩১-এর কাজ শেষ হওয়ার পর বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর গভীর কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। কূপটির লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মিটার। খনন ও পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে বাখরাবাদ-১১ থেকে দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।
হিসাব অনুযায়ী, তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাখরাবাদ-১১ থেকে প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। এর সঙ্গে তিতাস-২৮-এর সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট যোগ হলে পাঁচটি কূপ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে প্রায় দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাসের মজুত রয়েছে। তবে তিতাস-৩১ একটি অনুসন্ধানমূলক কূপ হওয়ায় এখান থেকে নতুন মজুতের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, তিতাস-৩১-এর মাধ্যমে আরও প্রায় দুই টিসিএফ গ্যাসের মজুত যুক্ত হতে পারে। তবে এটি এখনো নিশ্চিত নয়। কূপটির খনন শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে এবং সেই ফলের ভিত্তিতেই নতুন মজুতের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।