ইইউ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের অর্ধেকের বেশি আসে এই অঞ্চল থেকে। তবে গত অর্থবছরে বড় বড় বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিপরীতে যেসব দেশে রপ্তানি বেড়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই তুলনামূলক ছোট বাজার হওয়ায় সামগ্রিক ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
ইইউতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পোশাক বাজার জার্মানিতে রপ্তানি ১১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪৯৫ কোটি ডলার থেকে ৪৩৮ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। দেশটিতে নিট পোশাকের রপ্তানি প্রায় ১৩ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। এরপরও জার্মানিতে মোট রপ্তানির বড় অংশ ছিল নিট পোশাক, যার পরিমাণ ২৬৮ কোটি ডলার। ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৭০ কোটি ডলার।
ইইউর তৃতীয় বৃহত্তম বাজার ফ্রান্সে রপ্তানি প্রায় ৯ শতাংশ কমে ২১৬ কোটি ডলার থেকে প্রায় ১৯৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। সেখানে নিট পোশাকের রপ্তানি ১১ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি ৫ শতাংশ কমেছে। ইতালিতেও রপ্তানি প্রায় ৮ শতাংশ কমে ১৫৪ কোটি ডলার থেকে ১৪২ কোটি ডলারে নেমেছে। এখানেও নিট পোশাকের রপ্তানিতে বেশি পতন হয়েছে।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানের মতে, নিট পোশাক উৎপাদনে স্থানীয় মূল্য সংযোজনের হার প্রায় ৯০ শতাংশ হওয়ায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ এবং শ্রমিক অসন্তোষের মতো অভ্যন্তরীণ সমস্যার প্রভাব এ খাতে বেশি পড়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের কারণে বৈশ্বিক রপ্তানি বাজার সংকুচিত হয়েছে। একই সময়ে চীন ও ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোও ইইউ বাজারে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে। দেশে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও কমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইইউর অন্যান্য বড় বাজারের মধ্যে ডেনমার্কে রপ্তানি ১০ শতাংশ কমে ১০৪ কোটি ডলার থেকে ৯৪ কোটি ডলারে নেমেছে। বেলজিয়ামে রপ্তানি ৫৫ কোটি ডলার থেকে ৫৩ কোটি ডলারে, চেক রিপাবলিকে ৩২ কোটি ডলার থেকে ৩১ কোটি ডলারে এবং আয়ারল্যান্ডে ২৫ কোটি ডলার থেকে ২৩ কোটি ডলারে নেমেছে। রোমানিয়ায় সবচেয়ে বেশি ২০ শতাংশ পতন হয়েছে, যেখানে রপ্তানি ২৩ কোটি ডলার থেকে ১৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, গ্রিস, ক্রোয়েশিয়া, ফিনল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ ও মাল্টাতেও রপ্তানি কমেছে।
অন্যদিকে ইইউর দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার স্পেনে রপ্তানি ৬ শতাংশ বেড়ে ৩৪০ কোটি ডলার থেকে ৩৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, স্লোভেনিয়া, পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, লাতভিয়া, হাঙ্গেরি, সাইপ্রাস ও বুলগেরিয়াতেও রপ্তানি বেড়েছে।
সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯০৬ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের ১ হাজার ৯৭১ কোটি ডলারের তুলনায় ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কম। একই সঙ্গে দেশের মোট পোশাক রপ্তানিতে ইইউর অংশও ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট