ভারতের ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। গত মাস থেকে শুরু হওয়া লাগাতার অনশন কর্মসূচিতে নতুন করে আরও পাঁচজন অংশ নেওয়ায় আন্দোলনে নতুন গতি এসেছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে রাঁচিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে ২৯ জুলাই থেকে এই অনশন কর্মসূচি চলছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ১৪তম জেপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষাসহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। মঙ্গলবার ৪ আগস্ট আরও পাঁচজন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে যোগ দেওয়ার পর আন্দোলনের তীব্রতা বেড়েছে।
দিল্লিভিত্তিক ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি ছাত্রনেতাদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, জেপিএসসি ও জেএসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি তার সংগঠনের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
আন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠন ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ৬ আগস্ট ঝাড়খণ্ড ক্রান্তি মোর্চা মিছিল করবে। ৭ আগস্ট সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন যৌথভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে। আর ১০ আগস্ট কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা ছাড়াই সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে আন্দোলনের প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমর্থন জানানো হচ্ছে। অনেকে অনলাইন ডেলিভারি সেবার মাধ্যমে আন্দোলনস্থলে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠাচ্ছেন। একই সঙ্গে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ঝাড়খণ্ড শাখাও সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
আন্দোলন নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। তিনি জানান, রাজ্য সরকার ঝাড়খণ্ড পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং বিশেষ তদন্ত দল দিনরাত কাজ করছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী ও রাজ্যবাসীকে জানিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট