শিশুদের মধ্যে খাবার খাওয়া বা ছোট বস্তু নিয়ে খেলাধুলার সময় চোকিং ও গ্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটতে পারে। অনেক অভিভাবক এই দুই অবস্থাকে একই মনে করলেও চিকিৎসকদের মতে, এগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্য জানা থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
গ্যাগিং সাধারণত শিশুর শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া। যখন কোনো খাবার বা বস্তু মুখের ভেতর গলার দিকে বেশি চলে যায়, তখন শরীর সেটিকে বাইরে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শিশু কাশি দিতে পারে, শব্দ করতে পারে বা বমি বমি ভাব প্রকাশ করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি বিপদের লক্ষণ নয়, বরং শরীর নিজেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে।
অন্যদিকে চোকিং একটি জরুরি অবস্থা। এতে কোনো খাবার বা ছোট বস্তু শিশুর শ্বাসনালি আটকে দিতে পারে। ফলে শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কাশি দিতে পারে না, কথা বলতে পারে না বা কান্নার শব্দও বের হতে নাও পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে চোকিংয়ের ঝুঁকি বেশি থাকে। বাদাম, আঙুর, পপকর্ন, শক্ত ক্যান্ডি এবং ছোট খেলনার অংশ শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই এসব খাবার বা বস্তু ব্যবহারের সময় অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
চিকিৎসকরা বলেন, শিশু যদি কাশি দিতে পারে বা শব্দ করতে পারে, তাহলে তাকে কাশি চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করা উচিত। তবে যদি সে শ্বাস নিতে না পারে বা মুখমণ্ডল নীলচে হতে শুরু করে, তাহলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে।
শিশুদের নিরাপত্তার জন্য খাবার ছোট ছোট টুকরো করে দেওয়া, খাওয়ার সময় দৌড়াদৌড়ি না করতে দেওয়া এবং বয়স উপযোগী খেলনা ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিভাবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মোকাবিলা করা সহজ হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও সতর্কতাই শিশুদের চোকিংজনিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ডেস্ক রিপোর্ট