ছয় মাস আগে ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। জুলাইয়ে তা নেমেছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে। কিছুটা স্বস্তি এলেও, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো কাটেনি।
আর এই মূল্যস্ফীতির পিছনে অনেকটা দায়ী, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট ও দাম বৃদ্ধি। গেল অর্থবছরে বাংলাদেশে রেকর্ড ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় করতে হয়েছে। যদিও এর ফলে রিজার্ভে ততটা চাপ পড়েনি, কারণ দেশে বিনিয়োগ না থাকায় অন্য ক্ষেত্রে আমদানির চাহিদা ছিল কম। ফলে সরকারের ছয় মাসে আগস্টে গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভ না কমায় ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকার আশপাশেই স্থিতিশীল আছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটে যে ধরনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে আমাদের বিনিয়োগকে চাঙ্গা করার জন্য, বন্ডেড ওয়্যার হাউস থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদেরকে স্বস্তি দেওয়ার মতো কার্যক্রম আছে। এগুলোকে ভালোভাবে বাস্তবায়িত করতে পারলেই কেবলমাত্র আমরা রাজস্ব আহরণের সূত্রগুলোকে আরও বিস্তৃতও করতে পারব এবং সেখান থেকে আমরা আদায়ও করতে পারব। আয় এটা যদি আমরা ঠিকভাবে না করতে পারি রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে, তাহলে কিন্তু একটা ঋণ ঝুঁকির দিকে আমরা পড়ে যাব।
সামষ্টিক অর্থনীতির এই পর্যায়ে স্বস্তি থাকলেও সবচেয়ে বড় খাত-রপ্তানি আয়ে হতাশা। অন্যদিকে জ্বালানি ও সারের আমদানি বাড়ায় মোট আমদানি বেড়ে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমরা ৪টি জায়গা আইডেন্টিফাই করেছিলাম। এই ৪টি জায়গা যদি সংস্কার করা না যায় তাহলে ইনভেস্টমেন্ট আসবে না। জ্বালানি সংকট, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার না হওয়াতে ইনভেস্টমেন্ট কিন্তু একেবারে জিরোই বলতে পারেন। মানে ফরেন ইনভেস্টমেন্ট তো আসেই নাই। বরঞ্চ আমরা যারা লোকাল ইনভেস্টর আছি আমাদেরও কিন্তু এখন সংগ্রামে টিকে থাকতে হচ্ছে।
তবে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে ধরে রেখেছেন মূলত প্রবাসীরা। গেল অর্থবছরে তাদের পাঠানো সাড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স প্রবাহ বাণিজ্য ঘাটতি মিটিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য লেনদেনের ভারসাম্য উদ্বৃত্ত রেখেছে ৬.৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এখানে সরকার কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও উদ্বেগ এখনও কাটেনি বলে মন্তব্য অর্থনীতিবিদদের।
সিপিডি এর সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট, সে বাজেটে অনেকগুলো ভালো পদক্ষেপ আছে। কিন্তু ৬ মাসের বাস্তবতা হলো, পুঞ্জিভূত যেসব চ্যালেঞ্জগুলো ছিল অর্থনীতিতে যা তারা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। সেগুলোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোন ব্যতিক্রম বা উন্নতি আমরা কিন্তু দেখিনি।
সরকারের ছয় মাসে সামস্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবণতা না থাকলেও দ্রুত জ্বালানি সংকট সমাধান করে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।