মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শুনানিতে আদালত জিন্নাহ সিন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তাদের শিক্ষাজীবন যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানে চিকিৎসাশিক্ষা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি) সম্প্রতি মেডিকেল কলেজগুলোকে সেখানে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদের আফগানিস্তানে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে চলতি শিক্ষাবর্ষে আফগান নাগরিকদের নতুন করে ভর্তি বা কোনো শিক্ষাকার্যক্রমে অন্তর্ভুক্তি নিষিদ্ধ করেছে পিএমডিসি।
তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বৈধ ভিসাধারী এবং স্বীকৃত শিক্ষাক্রমে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারবেন। ফলে বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পিএমডিসির নির্দেশনা কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানে আফগান নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর চলমান অভিযানের মধ্যেই এ মামলা হয়েছে। ২০২৩ সালে নথিপত্রবিহীন বিদেশিদের পাকিস্তান ছাড়ার সময়সীমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই অভিযান শুরু হয়।
ইসলামাবাদ এ অভিযানের পক্ষে অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছে। অভিযান শুরুর পর থেকে স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়া ও বহিষ্কৃত ব্যক্তিসহ ২০ লাখের বেশি আফগান পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানে ফিরে গেছেন।
১৪ সেপ্টেম্বর সিন্ধু হাইকোর্ট মামলাকারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পিএমডিসির ওই নির্দেশনা স্থগিত করেন।
মঙ্গলবারের শুনানিতে শিক্ষার্থীদের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, জিন্নাহ সিন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আফগান শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অংশ নিতে বাধা দিয়েছে। তাদের বায়োমেট্রিক প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকেও তাদের বের করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের পক্ষে আইনজীবী ইফতিখার শাহ বলেন, আদালতের আগের দেওয়া সুরক্ষা বহাল রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকতে পারবেন।
তিনি বলেন, একটি আবেদনের আওতায় ২৯ জন এবং অন্য একটি আবেদনের আওতায় ৩ জন শিক্ষার্থী এই সুরক্ষা পেয়েছেন। তবে লিখিত আদালতের আদেশ জারি হলে চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা হবে।
পাকিস্তানের অন্যান্য এলাকাতেও আফগান শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকরা আইনি সুরক্ষা চেয়েছেন।
পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের আদালতগুলো কয়েকটি মামলায় সাময়িক সুরক্ষা দিয়েছেন। অন্যদিকে বেলুচিস্তান হাইকোর্ট চিকিৎসাশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আফগান নাগরিকদের করা একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।
এ ছাড়া ইসলামাবাদের একটি আদালত স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণরত এক আফগান চিকিৎসককে পৃথকভাবে সুরক্ষা দিয়েছেন। বিভিন্ন আদালতের ভিন্ন ভিন্ন রায়ের কারণে পাকিস্তানজুড়ে আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অবস্থান এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি।
সিন্ধু হাইকোর্টে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজন আফগান নাগরিকদের জন্য পাকিস্তান সরকারের একটি বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় পড়াশোনা করছেন।
করাচির একটি মেডিকেল কলেজ থেকে ২০২৭ সালে স্নাতক হওয়ার কথা রয়েছে এমন দুই নারী শিক্ষার্থী যুক্তি দিয়েছেন, ডিগ্রি শেষ করার আগেই তাদের পাকিস্তান ছাড়তে বাধ্য করা হলে তাদের চিকিৎসাশিক্ষা শেষ হয়ে যাবে।
আফগান নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের (আইইএ) কর্তৃপক্ষ নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সূত্র : আরিয়ানা নিউজ