পবিত্র রমজান মাসে পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৭ মার্চ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এতিম ও আলেম-ওলামাদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে রমজানে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য না বাড়ানোর জন্য অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতি কঠোর ও বিনীত আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।
ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "রমজান ত্যাগ ও সংযমের মাস হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউ কেউ এ সময় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন। আপনারা দয়া করে মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।" তিনি যাকাত ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার যাকাত আদায় হয়। কিন্তু সুপরিকল্পিত বণ্টনের অভাবে তা দারিদ্র্য বিমোচনে আশানুরূপ ভূমিকা রাখতে পারছে না। সরকার এখন যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যাতে একজন যাকাত গ্রহীতা আগামী বছর নিজেই যাকাত দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এবারের রমজানে সরকারিভাবে ব্যয় সংকোচনের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে এবার মাত্র দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আজকের আয়োজনে সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেহমান হিসেবে ‘এতিম শিশুদের’ অভিহিত করে তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী এতিমের হক আদায় করা মুমিন মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্ব। দেশের বর্তমান বাস্তবতায় কিছুটা বিলম্বে এই আয়োজন করা হলেও আলেম-ওলামা ও এতিমদের সান্নিধ্য পাওয়াকে তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট