ঢাকা , বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ , ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
মাদক, কিশোর গ্যাং ও র‍্যাগ ডে রোধে মাউশির নির্দেশ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়েছে চুয়েটে ৩০ ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ উপাচার্যকে উদ্ধার, ক্যাম্পাসে না আসার শর্তে রেলখাতের উন্নয়নে ৮০টি নতুন ইঞ্জিন আমদানির উদ্যোগ: রেলমন্ত্রী কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আরও ৩৫৩ জন আটক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুপারিশ তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে প্রস্তাব ৪ বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ভারত বাণিজ্য বৈঠক শেষ আজ, আলোচনায় শুল্ক ও বাণিজ্য ঘাটতি রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া শুরু বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ এশিয়ার বাজারগুলোতে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি অবসরভাতা পেতে শিক্ষকদের ভোগান্তি বন্ধের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশকে খাদ্য নিরাপত্তায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক পাকিস্তান ও ভারতীয়দের তুলনায় বাংলাদেশিদের গড় আয়ু বেশি: WHO যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী কেন সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা? অক্টোবরে বেতনের সঙ্গে ৩ মাসের বকেয়া পেতে পারেন সরকারি চাকরিজীবীরা রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই হতে হবে: তারেক রহমান দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকটের আশঙ্কা প্রকাশ এস জয়শঙ্করের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন জ্বালানি আজ দেশে আসছে

বিনিয়োগকারী রক্ষায় অকার্যকর কোম্পানি ডিলিস্টিং: কঠোর হচ্ছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২১-০২-২০২৬ ০২:০৪:৫৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০২-২০২৬ ০২:০৪:৫৩ অপরাহ্ন
  • ২ মিনিট পড়ার সময়
  • ৫৭ বার পঠিত
বিনিয়োগকারী রক্ষায় অকার্যকর কোম্পানি ডিলিস্টিং: কঠোর হচ্ছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ছবি: সংগৃহীত

টানা তিন বছর উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজার থেকে সরিয়ে দেওয়ার (ডিলিস্টিং) আইনি বিধান থাকলেও তা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কাটছে না। অতীতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনাগ্রহ এবং আইনি জটিলতায় অকার্যকর কোম্পানিগুলো মূল বোর্ডে রয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাজারের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফেরাতে এসব 'জাঙ্ক' বা পচা শেয়ারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি তুলেছেন বাজার বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। তারা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করে একটি সুনির্দিষ্ট ‘এক্সিট মেকানিজম’ বা বিনিয়োগ প্রত্যাহারের সুযোগ তৈরি করে এসব প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত তালিকাচ্যুত করা জরুরি।

 

​দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যমতে, বর্তমানে ৩৫৯টি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১১টিই ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। কারখানা বন্ধ থাকা, সঞ্চিত লোকসান পরিশোধিত মূলধনের চেয়ে বেশি হওয়া, নিয়মিত এজিএম না করা এবং লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থতার কারণে এসব কোম্পানিকে দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ডিএসইর পরিচালক মো. সাজেদুল ইসলাম জানান, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই ডিলিস্টিং প্রক্রিয়ায় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ফ্যামিলিটেক্সের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে মাত্র ৪.০২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এমতাবস্থায় হুট করে ডিলিস্ট করলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন। তবে অতীতে ডিলিস্ট হওয়া রহিম ফুড করপোরেশনের আবার মূল বোর্ডে ফিরে আসার নজিরও রয়েছে।

 

​বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, অকার্যকর কোম্পানিগুলোকে বছরের পর বছর মূল বোর্ডে টিকিয়ে রাখায় বাজারে তিনটি বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। প্রথমত, এসব শেয়ার নিয়ে কারসাজি বা ‘পাম্প-অ্যান্ড-ডাম্প’ প্রক্রিয়ায় কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো সহজ হয়। যেমন, লোকসানে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত শ্যামপুর সুগার মিলসের শেয়ারদর কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই গত এক মাসে ২৭ শতাংশ বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, সুশাসনহীন কোম্পানির আধিক্য বাজারের সামগ্রিক মান কমিয়ে দেয়। তৃতীয়ত, এটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা পাঠায়, যা পোর্টফোলিও বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম মনে করেন, ডিলিস্টিং একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক বাইব্যাক বা শেয়ার পুনারায় কিনে নেওয়ার বিধান রাখা যেতে পারে।

 

​অর্থ মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে। আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কমিটি সুপারিশ করেছে যে, দীর্ঘদিন বন্ধ ও লভ্যাংশহীন কোম্পানির জন্য আলাদা ‘আর’ (Restricted) ক্যাটাগরি করা হোক। এতে এসব শেয়ার পৃথক প্ল্যাটফর্মে লেনদেন হবে, যা কারসাজি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নের জন্য অকার্যকর প্রতিষ্ঠানকে লেনদেন মঞ্চ থেকে সরানো এখন সময়ের দাবি। নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, উদ্যোক্তাদের দায়বদ্ধতা বাড়ানো এবং শেয়ার বিক্রিতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।


নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।