মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ইরানকে ‘প্রিমিয়াম’ সুবিধা দিচ্ছে ইলন মাস্কের এক্স!
- আপলোড সময় : ১৪-০২-২০২৬ ০৭:১১:০৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৪-০২-২০২৬ ১০:২৬:৩৬ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৫১ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরান সরকারের ঘনিষ্ঠ একাধিক অ্যাকাউন্টের কাছে ‘এক্স প্রিমিয়াম’ সাবস্ক্রিপশন বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর বিরুদ্ধে। ওয়াশিংটনভিত্তিক নজরদারি সংস্থা ‘টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্ট’ (TTP) তাদের সাম্প্রতিক এক তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্মটি তেহরানের ওপর আরোপিত মার্কিন আইনি বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে পেইড ভেরিফিকেশন সেবা প্রদান করছে। বিশেষ করে যখন সাধারণ ইরানি নাগরিকরা ইন্টারনেটের নাগাল পেতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন রাষ্ট্র-সমর্থিত এই অ্যাকাউন্টগুলো প্রিমিয়াম সুবিধার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তাদের প্রচার-প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
টিটিপি-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান সরকারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অন্তত দুই ডজন অ্যাকাউন্টে নীল টিকচিহ্ন (Blue Checkmark) দেখা গেছে, যা সাধারণত মাসিক ফির বিনিময়ে কেনা হয়। প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন থাকায় এই অ্যাকাউন্টগুলো সাধারণ ইউজারদের চেয়ে বেশি দৃশ্যমানতা বা ‘অ্যালগরিদমিক বুস্ট’ পাচ্ছে, যার ফলে তাদের পোস্টগুলো অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে। নজরদারি সংস্থাটি বলছে, এটি কেবল এক্স-এর নিজস্ব নীতিমালার পরিপন্থী নয়, বরং মার্কিন অর্থ দপ্তরের ‘অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (OFAC)-এর নিয়ম অনুযায়ী একটি সম্ভাব্য আইনি লঙ্ঘন। কারণ মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশ বা ব্যক্তির সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অভিযোগের বিষয়ে আরও বলা হয়েছে, ইরান যখন জানুয়ারি ২০২৬-এ দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বজায় রেখেছিল, তখনও এই প্রিমিয়াম অ্যাকাউন্টগুলো অবাধে দীর্ঘ ভিডিও এবং পোস্ট শেয়ার করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও ইলন মাস্ক নিজেকে বাকস্বাধীনতার প্রবক্তা হিসেবে দাবি করেন, তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সত্তাগুলোর কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে তাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়া নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই এখন সমালোচনার ঝড় বইছে। এর আগেও হিজবুল্লাহ ও হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল এক্স-এর বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর মার্কিন সরকারের নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।