দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়নকাজ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। কোথাও সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখা, কোথাও কাজ শুরুর পর দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা, আবার কোথাও আংশিক কাজ করে রেখে দেওয়া হয়েছে । এতে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ, রোগী বহনকারী যানবাহন এবং ব্যবসায়ীরা সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সড়কের একাংশ খোঁড়া থাকার কারণে যান চলাচল স্বাভাবিকভাবে সম্ভব হচ্ছে না। অনেক জায়গায় বিকল্প পথ না থাকায় ছোট রাস্তা দিয়েই বড় যানবাহন চলাচল করছে, ফলে অতিরিক্ত যানজট তৈরি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে খোঁড়া রাস্তায় কাদা জমে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে, আর শুকনো মৌসুমে ধুলোবালির কারণে আশপাশের বাসিন্দারা শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েন।
অনেক সময় পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে কাজ শেষ হতে দেরি হয়। একদিকে সড়ক খোঁড়ার পর পানি, গ্যাস বা বিদ্যুতের লাইনের কাজ শুরু হলে তা শেষ হতে সময় লাগে; অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জনবল ও সরঞ্জামের সংকট থাকলেও প্রকল্পের গতি কমে যায়। কোথাও অর্থ ছাড়ের জটিলতা, কোথাও প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়ানো— সাধারণত এসব নানা কারণে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়ে থাকে
সড়ক সংস্কার অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা হতে হবে নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে এবং জনদুর্ভোগ কমিয়ে। কাজ চলাকালে পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড, বিকল্প পথের নির্দেশনা, রাতে আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না থাকলে দুর্ঘটনা ও ভোগান্তি আরও বাড়ে। রাস্তা সংস্কারের ক্ষেত্রে দ্রুত কাজ শেষ করে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করার পাশাপাশি, নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা উচিত।
ডেস্ক রিপোর্ট