দেশে তেল ও গ্যাসসহ জ্বালানির মজুদ কমপক্ষে তিন মাসের জন্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার, পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদনের চেয়ে সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
সোমবার (১১ মে) রাজধানীর গুলশানে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বৈশ্বিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সুষ্ঠু বিতরণ কাঠামোর অভাবে ভোক্তা পর্যায়ে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে হলে জ্বালানি খাতে নির্ভরযোগ্য মজুদ গড়ে তোলা জরুরি। এ লক্ষ্যেই তেল ও গ্যাসের রিজার্ভ তিন মাসের সমপরিমাণে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলা করা যায়।
রাজস্ব খাত নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন। তিনি জানান, পূর্ববর্তী উদ্যোগ যথেষ্ট না হওয়ায় নতুন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সংস্কারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আংশিক সংস্কারের কারণে পুরোনো ও নতুন কাঠামোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বড় পরিসরে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নেওয়া হবে। বর্তমানে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের বড় অংশই অদক্ষ শ্রমিকদের কাছ থেকে আসছে; তাদের দক্ষতা বাড়াতে পারলে রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব, যা ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে বিদ্যমান অনেক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেশন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নয়, ফলে এসব খাতে বিনিয়োগের প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে বড় ধরনের দুর্নীতির কারণে প্রত্যাশিত হারে চাকরির সুযোগ তৈরি হয়নি। আগামী দুই বছরের মধ্যে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষিতদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে আইসিটি খাতকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হলেও, এ খাতে অতীতে অপচয় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডেস্ক রিপোর্ট