ঢাকা , শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬ , ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) , ২৪ সফর ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
বিদেশের কারাগারে দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দি ২৫ শতাংশ বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকুক বা না থাকুক, ইরানে একক সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত বায়তুল মোকাররমে জুমার বয়ান ও নামাজ পড়াবেন দেওবন্দের মুহতামিম রিপাবলিক বাংলা ছাড়লেন জনপ্রিয় ভারতীয় সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ ভুল তথ্যে শোন অ্যারেস্ট আবেদন, বরগুনার এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নতুন বাংলাদেশের পথচলার কেন্দ্র হবে: ড. ইউনূস সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে সৌদির বিনিয়োগের আহবান প্রধানমন্ত্রীর হাসপাতালে হামলায় ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের আচরণ ইসরায়েলের মতো: সাদিক আল-আকসা দখলের পথে ইসরায়েলীরা,হাতছাড়ার ঝুঁকিতে জরুরি বৈঠক জর্ডানের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফুঁসে উঠেছে তিস্তা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানজুড়ে পিটিআইয়ের আজ বিক্ষোভ রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে: কিয়েভ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর লোহিত সাগরে ইয়েমেন উপকূলে হামলার শিকার ভারতীয় জাহাজ ডুবল বিশ্ব বাণিজ্য পর্যালোচনায় পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ আজ সেই ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস তনু হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য জামিনে মুক্ত বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-১ এ আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু পতেঙ্গা-হাতিয়া-কুতুবদিয়া শিপিং চ্যানেলে জালের জড়ালে মারাত্মক নৌ-ঝুঁকি রূপপুর গ্রিন সিটিতে রুশ নাগরিকদের মারামারি: নিহত ১

লোকসানি সরকারি প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছাড়ার ঘোষণা বাণিজ্যমন্ত্রীর

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ০৮-০৫-২০২৬ ০২:৫১:২৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-০৫-২০২৬ ০২:৫১:২৩ পূর্বাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ১৯ বার পঠিত
লোকসানি সরকারি প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছাড়ার ঘোষণা বাণিজ্যমন্ত্রীর ছবি: সংগৃহীত
দেশের অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান হাজার হাজার বিঘা জমি দখল করে বসে আছে। ওইসব কোম্পানিগুলো আগামী দুই বছরের মধ্যে বেসরকারি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী 'আন্তর্জাতিক ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং এক্সপো ২০২৬'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩৮ থেকে ৪০টি সরকারি প্রতিষ্ঠান, যার প্রত্যেকটিতে ৫ থেকে ১০ হাজার বিঘা জমি পড়ে রয়েছে। কোনো কোনোটি ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার একর জমি তাদের দখলে। এ ছাড়া পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরও অন্তত ৫০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, এগুলোরও হাজার হাজার বিঘা জমি দখল করে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকারি কোম্পানিগুলো লোকসানে রয়েছে। ওইসব প্রতিষ্ঠানে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ অনেক। এগুলো ধীরে ধীরে বেসরকারি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়া হবে। যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান অলসভাবে পড়ে আছে, সেগুলোর অলসতা দূর করে কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে।

উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের এক হাজার বিঘার নিচে কোনো সুগার মিল নেই, এরকম ফ্যাক্টরি রয়েছে ১৫টি। এই ১৫টি ফ্যাক্টরির একেকটির জায়গায় অন্তত ১০টি করে ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আয়তন ও সক্ষমতা অনুযায়ী কী পরিমাণে আয় আসছে, সেগুলো বিবেচনা করে সরকার দ্রুত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর অলসতা দূর করে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, আমাদের বড় দুটি সমস্যা রয়েছে। একটি হলো প্রক্রিয়াগত জটিলতা। আমরা যদি রেজিস্ট্রেশন করতে যাই, তাহলে অনেকগুলো প্রসেস মানতে হয়। এসব প্রসেস আমরা একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসব। দ্বিতীয়ত, দেশে অনেক পণ্যের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। এই সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি।

মেলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এই এক্সপো বাংলাদেশের শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্‌ম। ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং শিল্প রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাতগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে প্যাকেজিং শুধু মোড়ক নয়, এটি পণ্যের গুণগত মান, ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এ খাতকে প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধবভাবে উন্নয়ন করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও সিইও মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, সরকার ২০২৬ সালের জন্য এই পণ্যটিকে বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। গত জানুয়ারিতেই বাণিজ্য মেলা চলাকালীন এই ঘোষণাটি আমরা দিয়েছিলাম। আমরা পুরো বছরজুড়ে পণ্যটির রপ্তানি বাড়াতে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।

বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর বলেন, প্যাকেজিং শিল্পের টেকসই উন্নয়নে মাননিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও রিসাইক্লিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্যাকেজিং শিল্পের বাজার ৮ হাজার কোটি টাকার। এই খাতে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। বিশ্ববাজারে এই শিল্পের বাজার ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ যদি এর মধ্যে এক শতাংশেও পৌঁছাতে পারে তাহলে এই খাত ১৩ বিলিয়ন ডলারের বাজারে পৌঁছাবে।

এক্সপোনেট এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক বলেন, এই এক্সপো উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি সরবরাহকারী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করবে এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি করবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে প্লাস্টিক খাতে ৬ হাজারের বেশি উৎপাদন ইউনিট রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৫০টি রপ্তানিমুখী। এ খাত প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং দেশীয় চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি পূরণ করছে।

আয়োজকদের মতে, পরিবেশবান্ধব ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্যাকেজিংয়ের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য নতুন রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এক্সপোতে প্যাকেজিং প্রযুক্তি, কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও উদ্ভাবনী সমাধান প্রদর্শিত হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ আয়োজন দেশের প্যাকেজিং শিল্পকে আরও সংগঠিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তরে সহায়ক হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।