ঢাকা , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
সমুদ্রের ১০ মিটার গভীরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনা বিজ্ঞানীদের সাফল্য জাতিসংঘে ভাষণ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন তারেক রহমান ইসরায়েলের কাছে ৬০ হাজার ভারী বোমা বিক্রির চূড়ান্ত প্রস্তুতি ট্রাম্পের খিলক্ষেত থেকে ১২ বছরের শিশু নাঈম নিখোঁজ: অজ্ঞাত ব্যক্তির ফোনকল পরিবারে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেসরকারি খাতে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের পক্ষে রাশিয়ার ও চীনের ভেটো যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির এলএনজি আমদানির প্রথম চালান দেশে পৌঁছেছে ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণ নিউইয়র্কে যাচ্ছে রূপপুরের বিদ্যুৎ গ্রিডে নিতে সঞ্চালন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল উত্তর আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষ, উঠছে প্রশ্ন স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের কথা আদালতে স্পষ্ট করলেন ভারতের আয়ুষ মালিক দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ ঢাকায় তিন মেট্রোরেল প্রকল্পে আড়াই লাখ কোটি টাকা অনুমোদন লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়া ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটোর যুদ্ধবিমান ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের পর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান মন্ত্রীর দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আরও ৬ কার্গো এলএনজি আমদানি পশ্চিমবঙ্গে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশ: আরও ১০০ প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ

লোকসানি সরকারি প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছাড়ার ঘোষণা বাণিজ্যমন্ত্রীর

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ০৮-০৫-২০২৬ ০২:৫১:২৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-০৫-২০২৬ ০২:৫১:২৩ পূর্বাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ৪৪ বার পঠিত
লোকসানি সরকারি প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছাড়ার ঘোষণা বাণিজ্যমন্ত্রীর ছবি: সংগৃহীত
দেশের অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান হাজার হাজার বিঘা জমি দখল করে বসে আছে। ওইসব কোম্পানিগুলো আগামী দুই বছরের মধ্যে বেসরকারি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী 'আন্তর্জাতিক ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং এক্সপো ২০২৬'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩৮ থেকে ৪০টি সরকারি প্রতিষ্ঠান, যার প্রত্যেকটিতে ৫ থেকে ১০ হাজার বিঘা জমি পড়ে রয়েছে। কোনো কোনোটি ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার একর জমি তাদের দখলে। এ ছাড়া পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরও অন্তত ৫০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, এগুলোরও হাজার হাজার বিঘা জমি দখল করে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকারি কোম্পানিগুলো লোকসানে রয়েছে। ওইসব প্রতিষ্ঠানে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ অনেক। এগুলো ধীরে ধীরে বেসরকারি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়া হবে। যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান অলসভাবে পড়ে আছে, সেগুলোর অলসতা দূর করে কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে।

উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের এক হাজার বিঘার নিচে কোনো সুগার মিল নেই, এরকম ফ্যাক্টরি রয়েছে ১৫টি। এই ১৫টি ফ্যাক্টরির একেকটির জায়গায় অন্তত ১০টি করে ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আয়তন ও সক্ষমতা অনুযায়ী কী পরিমাণে আয় আসছে, সেগুলো বিবেচনা করে সরকার দ্রুত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর অলসতা দূর করে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, আমাদের বড় দুটি সমস্যা রয়েছে। একটি হলো প্রক্রিয়াগত জটিলতা। আমরা যদি রেজিস্ট্রেশন করতে যাই, তাহলে অনেকগুলো প্রসেস মানতে হয়। এসব প্রসেস আমরা একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসব। দ্বিতীয়ত, দেশে অনেক পণ্যের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। এই সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি।

মেলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এই এক্সপো বাংলাদেশের শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্‌ম। ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং শিল্প রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাতগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে প্যাকেজিং শুধু মোড়ক নয়, এটি পণ্যের গুণগত মান, ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এ খাতকে প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধবভাবে উন্নয়ন করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও সিইও মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, সরকার ২০২৬ সালের জন্য এই পণ্যটিকে বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। গত জানুয়ারিতেই বাণিজ্য মেলা চলাকালীন এই ঘোষণাটি আমরা দিয়েছিলাম। আমরা পুরো বছরজুড়ে পণ্যটির রপ্তানি বাড়াতে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।

বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর বলেন, প্যাকেজিং শিল্পের টেকসই উন্নয়নে মাননিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও রিসাইক্লিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্যাকেজিং শিল্পের বাজার ৮ হাজার কোটি টাকার। এই খাতে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। বিশ্ববাজারে এই শিল্পের বাজার ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ যদি এর মধ্যে এক শতাংশেও পৌঁছাতে পারে তাহলে এই খাত ১৩ বিলিয়ন ডলারের বাজারে পৌঁছাবে।

এক্সপোনেট এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক বলেন, এই এক্সপো উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি সরবরাহকারী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করবে এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি করবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে প্লাস্টিক খাতে ৬ হাজারের বেশি উৎপাদন ইউনিট রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৫০টি রপ্তানিমুখী। এ খাত প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং দেশীয় চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি পূরণ করছে।

আয়োজকদের মতে, পরিবেশবান্ধব ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্যাকেজিংয়ের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য নতুন রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এক্সপোতে প্যাকেজিং প্রযুক্তি, কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও উদ্ভাবনী সমাধান প্রদর্শিত হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ আয়োজন দেশের প্যাকেজিং শিল্পকে আরও সংগঠিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তরে সহায়ক হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।