ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ক্ষমতাবর্ধনে ১৮টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণে ২৮৬ কোটি ২ লাখ ১৫ হাজার ২৬৭ টাকার তিনটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো) বাস্তবায়নাধীন “বাপবিবো’র বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ক্ষমতাবর্ধন (ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগ)” প্রকল্পের আওতায় এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি ২০২২ সালের ১৪ জুন একনেকে অনুমোদিত হয়। এর মেয়াদ ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে প্যাকেজ নম্বর ডব্লিউ-৩, লট-৩ এর আওতায় ৮টি ৩৩/১১ কেভি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ, নকশা প্রণয়ন, যন্ত্রপাতি সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষণ ও চালুকরণসহ ভূমি উন্নয়ন কাজ রয়েছে। এ কাজের জন্য ১১৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯০ টাকায় কনসোর্টিয়াম অব ইইএল অ্যান্ড এফএইচএল, বাংলাদেশকে কার্যাদেশ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
দরপত্রে অংশ নেওয়া সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টি কারিগরি ও আর্থিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়। সুপারিশ করা দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের তুলনায় ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ কম।
এ ছাড়া প্যাকেজ নম্বর ডব্লিউ-৩, লট-৪ এর আওতায় ৬টি নতুন ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণে ৯০ কোটি ৭৪ লাখ ২৩ হাজার ৪৪ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এ কাজ পাবে ঢাকার প্রতিষ্ঠান রেভেরি পাওয়ার অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।
এই দরপত্রে ছয়টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়, যার মধ্যে পাঁচটি কারিগরি ও আর্থিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়। সুপারিশ করা দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের তুলনায় ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ কম।
অন্যদিকে প্যাকেজ নম্বর ডব্লিউ-২, লট-৩ এর আওতায় আরও ৪টি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ৭৭ কোটি ৬১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৩৩ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ কাজও বাস্তবায়ন করবে রেভেরি পাওয়ার অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।
সাতটি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত দরপত্রে ছয়টি প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। সুপারিশ করা দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ কম। প্রকল্পের অর্থায়ন করা হচ্ছে সরকারি তহবিল, বিশ্বব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে।
এদিকে সরকারি মালিকানাধীন নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের (নওপাজেকো) দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ে পুনঃনির্ধারিত লেভেলাইজড ট্যারিফ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বাবিউবো) বছরে প্রায় ২০১ কোটি টাকার সাশ্রয় হবে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, একটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে নওপাজেকো পরিচালিত সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল (ইউনিট-২) বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পুনঃনির্ধারিত ট্যারিফ অনুযায়ী বিদ্যুৎ ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) অর্থায়নে স্থাপিত এ কেন্দ্রটি ২০১৮ সালে উৎপাদনে আসে। ২২ বছর মেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির আওতায় কেন্দ্রটি বাবিউবোর কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের ট্যারিফ প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ৫ দশমিক ৬০৪ টাকা থেকে কমিয়ে ৫ দশমিক ৫৪১ টাকা এবং এইচএসডিভিত্তিক ট্যারিফ ২৩ দশমিক ৭৬১ টাকা থেকে কমিয়ে ২৩ দশমিক ৬৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বাবিউবোর বছরে প্রায় ৩১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে।
চুক্তির অবশিষ্ট ১৪ বছর ৬ মাস ৪ দিন মেয়াদে এ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে গ্যাসভিত্তিক পরিচালনায় আনুমানিক ১৩ হাজার ১০৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং এইচএসডিভিত্তিক পরিচালনায় ৫৬ হাজার ৬২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
এদিকে আর একটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে নওপাজেকোর ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পুনঃনির্ধারিত ট্যারিফে বিদ্যুৎ ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জাপান সরকারের অর্থায়নে নির্মিত এ কেন্দ্রটি ২০১৭ সালে উৎপাদন শুরু করে এবং একইভাবে ২২ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় বাবিউবোর কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করছে।
এ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে গ্যাসভিত্তিক ট্যারিফ প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ৪ দশমিক ৭২৩২ টাকা থেকে কমিয়ে ৪ দশমিক ৬৫০৩ টাকা এবং এইচএসডিভিত্তিক ট্যারিফ ২০ দশমিক ৮১৫৯ টাকা থেকে কমিয়ে ২০ দশমিক ৬৯৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এতে গ্যাসভিত্তিক পরিচালনায় বছরে প্রায় ৭২ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং এইচএসডিভিত্তিক পরিচালনায় প্রায় ৯৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে।
চুক্তির অবশিষ্ট ১৪ বছর ৪ মাস ১৪ দিন মেয়াদে ভেড়ামারা কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে গ্যাসভিত্তিক পরিচালনায় আনুমানিক ২০ হাজার ২৫৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং এইচএসডিভিত্তিক পরিচালনায় ৭৩ হাজার ২১৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
সর্বশেষ সংবাদ