মঙ্গলবার ( ৪ আগস্ট) ভারতের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মেটা কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে জাকারবার্গের পক্ষ থেকে এই ক্ষমা চাওয়ার বার্তা জানানো হয় বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মানিকন্ট্রোলের প্রতিবেদনে বলা হয়, মেটার প্ল্যাটফর্মে বেআইনি শিশু যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট, বিভ্রান্তিকর ডিপফেইক কনটেন্ট এবং প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ত্রুটির বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে মেটা কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, প্ল্যাটফর্মে কিছু বেআইনি কনটেন্ট প্রচার বা প্রচারণার সুযোগ পেয়েছিল। বিশেষ কিছু কনটেন্ট প্রচারে অর্থ লেনদেনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মেটা কর্মকর্তাদের আবারও তলব করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও মেটা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এর আগে জুলাইয়ে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নিপীড়নমূলক বিজ্ঞাপন থাকার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। মেটাকে এসব কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি কীভাবে এগুলো প্ল্যাটফর্মে জায়গা পেল, তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল।
তখন মেটা জানিয়েছিল, শিশু যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্টের বিষয়ে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে এবং শনাক্তকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি পোস্ট ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেয়ার ঘটনাতেও মেটা কর্মকর্তাদের তলব করেছিল দেশটির সরকার। মেটা ওই ঘটনাকে পরিচালনাগত ভুল হিসেবে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেছিল।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আইন আরও কঠোর করেছে ভারত। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকার বা আদালত কোনো বেআইনি কনটেন্ট শনাক্ত করলে তা সরানোর সময়সীমা কমিয়ে তিন ঘণ্টা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে প্ল্যাটফর্মগুলো আইনি সুরক্ষা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন ফিচার তৈরি নয়, বরং কোটি কোটি ব্যবহারকারীর সামনে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করাও।
ডেস্ক রিপোর্ট