কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বর্তমানে শুধু প্রযুক্তি খাতেই নয়, লেখালেখি, ডিজাইন, গবেষণা, শিক্ষা এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনাসহ নানা সৃজনশীল কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে লেখা তৈরি করা, নতুন ধারণা দেওয়া কিংবা ছবি ডিজাইন করার সক্ষমতার কারণে এআই অনেকের কাজের গতি বাড়িয়েছে। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে—এআই কি মানুষের সৃজনশীলতাকে শুধু সমৃদ্ধ করছে, নাকি ধীরে ধীরে তা কমিয়েও দিচ্ছে?
আধুনিক সময়ে এসে এআইকে দিয়ে মানুষ একটি সহায়ক বা ‘কো-ক্রিয়েটর’ হিসেবে কাজ করিয়ে নিচ্ছে। অর্থাৎ এটি নতুন ধারণা খুঁজে বের করা, খসড়া তৈরি করা বা চিন্তার নতুন দিক দেখাতে সাহায্য করছে মানুষকে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা কাম্য। কেননা এআই ব্যবহার করে কোনো কাজ করার পর অনেক সময় কাজের প্রতি ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা কমে যেতে পারে। কাজের একটি বড় অংশ যন্ত্র সম্পন্ন করে দেওয়ায় ব্যক্তির সৃজনশীলতার কিছুটা হলেও ব্যত্যয় ঘটে।
এছাড়া মানুষ এআই ব্যবহার করে নতুন আইডিয়া পেলেও অনেক ক্ষেত্রে চিন্তার বৈচিত্র্য কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সৃজনশীল কাজগুলো ধীরে ধীরে একরকম হয়ে যেতে পারে।
সহজ থেকে জটিল, নানা কাজে মানুষ এআই এর সাহায্য নিচ্ছে। মনে রাখতে হবে, এই অতিরিক্ত নির্ভরতা ভালো কিছু নয়। যদি মানুষ নিজে চিন্তা করা, সমস্যা সমাধান করা এবং নতুন ধারণা তৈরির অভ্যাস কমিয়ে দেয়, তাহলে সৃজনশীলতার সমারোহে ঝুঁকির আভাস পাওয়া যায়। তাই নিজের কল্পনাশক্তি, বিশ্লেষণক্ষমতা এবং মৌলিক চিন্তার চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি।