নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলার চর ঈশ্বর ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগুলোতে এক শিশুসহ এক কিশোর প্রাণ হারায়। সাম্প্রতিক সময়ে হাতিয়ায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা বাড়তে থাকায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মৃতরা হলেন চর ঈশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খাসেরহাট এলাকার পাপন চন্দ্র কাঁহারের ছেলে বর্ণব কাঁহার এবং পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওছখালী পুরান বাজার এলাকার মনিরের ছেলে রাব্বি (১১)।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে পরিবারের অগোচরে বর্ণব বাড়ির পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়। এ সময় পাশের এক ব্যক্তি বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্বজনরা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, একই সময়ে রাব্বি নামের ১১ বছর বয়সী এক কিশোর পানিতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, সে সাঁতার জানত না। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মো. কবির হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ দিনে হাতিয়া উপজেলায় অন্তত ৬ জন শিশু ও কিশোর পানিতে ডুবে মারা গেছে। এর মধ্যে ১১ মে সোনাদিয়া ইউনিয়নের সেকু মার্কেট এলাকায় ফরিদ মিস্ত্রির পাঁচ বছরের ছেলে সাইমন উদ্দিন সামিমের মরদেহ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। একই দিন চরকিং ইউনিয়নেও আরেক শিশুর মৃত্যু হয় পানিতে পড়ে।
এছাড়া ৯ মে চরকিং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি পুকুরে পড়ে সাত বছর বয়সী এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়। এর আগে একই এলাকায় আরও এক দুই বছরের শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
একটির পর একটি শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বেড়েছে। সচেতন মহল শিশুদের প্রতি বাড়তি নজরদারি, বাড়ির আশপাশের জলাশয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং শিশুদের সাঁতার শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট