আল্লাহ তাআলার দয়া ও রহমত আমাদের জন্য রবের পক্ষ থেকে নিআমত, যা মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সামগ্রিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। কুরআন ও হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অপরিসীম অনুগ্রহশীল এবং কৃতজ্ঞতা ও আনুগত্যের মাধ্যমে মানুষ আরও বেশি রহমতের অধিকারী হতে পারে। ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে আল্লাহর দয়া শুধু ক্ষমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা জীবিকা, নিরাপত্তা, জ্ঞান ও আত্মিক প্রশান্তির সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “স্মরণ করো, তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেছেন—তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদের অবশ্যই অধিক দেব, আর অকৃতজ্ঞ হলে আমার শাস্তি হবে কঠোর” (সুরা ইবরাহিম: ৭)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “হে আমাদের রব, আপনি দয়া ও জ্ঞান দ্বারা সবকিছু পরিব্যাপ্ত করে রেখেছেন” (সুরা আল-মুমিন: ৭)। এসব আয়াত আল্লাহর রহমত ও সমগ্র সৃষ্টি জগতের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের বিষয়টি জানান দেয় এবং আমরা জানতে পারি কৃতজ্ঞতা মানুষের জন্য সেই দয়ার দরজা আরও উন্মুক্ত করে দেয়।
আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, “তোমার রব ক্ষমাশীল, অতীব দয়ালু। তাঁর রহমত ও দয়া সবকিছু জুড়ে রয়েছে। সুতরাং আমি তা তাদের জন্য নির্ধারিত করব যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, যাকাত দেয় এবং আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করে” (সুরা আরাফ: ১৫৬)। এ আয়াতে দয়া লাভের শর্ত হিসেবে তাকওয়া, দানশীলতা ও আনুগত্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, যা ইসলামের সামাজিক ও নৈতিক কাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
হাদিসেও আল্লাহর রহমতের ব্যাপকতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “আল্লাহ ১০০ ভাগ রহমত নির্ধারণ করেছেন। এর একটি ভাগ দুনিয়ায় মানুষ, জিন, পশু-পাখি ও কীটপতঙ্গের মধ্যে বণ্টন করেছেন, যার মাধ্যমে এমনকি বন্যপ্রাণিরাও তাদের সন্তানদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে। অবশিষ্ট ৯৯ ভাগ আল্লাহ নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন, যা দিয়ে তিনি কেয়ামতের দিন তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া করবেন” (সহিহ বুখারি)। এই বর্ণনা ইসলামে আল্লাহর অনুগ্রহের ব্যাপ্তি ও ভবিষ্যৎ প্রতিদানের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরে।
ডেস্ক রিপোর্ট