কোরবানির পশু জবাইয়ের আগে দুর্ঘটনাবশত পা ভেঙে গেলে কোরবানি শুদ্ধ হবে কি না—এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সাধারণভাবে পশুর শারীরিক ত্রুটি থাকলে কোরবানি বৈধ হয় না, তবে দুর্ঘটনার ধরন ও সময়ের ওপর নির্ভর করে বিধান ভিন্ন হতে পারে।
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, যে পশু স্পষ্টভাবে ল্যাংড়া এবং নিজে হেঁটে জবাইস্থলে যেতে পারে না, এমন পশু দিয়ে কোরবানি সহিহ নয়। এ বিষয়ে হাদিসে চার ধরনের পশুর কথা উল্লেখ রয়েছে, যেগুলো দিয়ে কোরবানি বৈধ নয়—স্পষ্ট অন্ধ, অসুস্থ, ল্যাংড়া এবং অত্যন্ত দুর্বল পশু।
তবে যদি পশুটি কেনার পর বা পরিবহনের সময় দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যায়, তাহলে বিষয়টি দুইভাবে বিবেচিত হয়। যদি ভাঙা পা থাকা সত্ত্বেও পশুটি মাটিতে পা স্পর্শ করে হাঁটতে পারে, তাহলে ওই পশু দিয়ে কোরবানি শুদ্ধ হবে। কিন্তু যদি পাটি একেবারেই মাটিতে রাখতে না পারে এবং তিন পায়ে ভর দিয়ে চলতে হয়, তাহলে তা দিয়ে কোরবানি করা বৈধ হবে না। এ ক্ষেত্রে সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে বিকল্প সুস্থ পশু কোরবানি করতে হবে, তবে অসচ্ছল হলে ওই পশুই কোরবানি করতে পারবেন।
অন্যদিকে, যদি পশুটি সুস্থ অবস্থায় জবাইয়ের জন্য আনা হয় এবং জবাইয়ের সময় ধস্তাধস্তি বা অনিচ্ছাকৃত কারণে পা ভেঙে যায়, তাহলে এতে কোরবানির ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না। ফিকহবিদদের মতে, এটি জবাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত এবং এ অবস্থায় কোরবানি সহিহ থাকে।
ইসলামে পশুর প্রতি দয়া ও সহমর্মিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। Prophet Muhammad (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, জবাইয়ের সময় পশুকে কষ্ট না দিয়ে দ্রুত ও যত্নের সঙ্গে তা সম্পন্ন করতে এবং ছুরি ধারালো রাখতে।
সার্বিকভাবে, কোরবানির ক্ষেত্রে পশু নির্বাচনে সতর্কতা, সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং জবাইয়ের সময় মানবিক আচরণ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা শরিয়তে বিবেচ্য হলেও সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা মুমিনের করণীয়।
ডেস্ক রিপোর্ট