হিল্লা বিয়ে: ইসলামে বৈধ নাকি হারাম? কুরআন-হাদিস কী বলে
- আপলোড সময় : ১১-০৬-২০২৬ ১২:২৮:৩৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-০৬-২০২৬ ১২:২৮:৩৭ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৭১ বার পঠিত
এআই জেনারেটেড
তিন তালাকের পর স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণের উদ্দেশ্যে করা তথাকথিত ‘হিল্লা বিয়ে’ নিয়ে সমাজে নানা বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, তিন তালাকের পর স্ত্রীকে অন্য একজনের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে তালাক করিয়ে আনলেই প্রথম স্বামীর সঙ্গে পুনরায় সংসার করা বৈধ হয়ে যায়। তবে ইসলামি শরিয়তের আলোকে পরিকল্পিত হিল্লা বিয়ের বিষয়ে রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “অতঃপর যদি সে তাকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়, তবে সে তার জন্য হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। এরপর যদি দ্বিতীয় স্বামীও তাকে তালাক দেয়, তবে তারা উভয়ে পুনরায় মিলিত হতে চাইলে তাদের জন্য কোনো পাপ নেই, যদি তারা মনে করে যে, তারা আল্লাহর বিধান মেনে চলতে পারবে।” (সূরা আল-বাকারা: ২৩০)
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এই আয়াতে কোথাও পরিকল্পিতভাবে অন্য কাউকে বিয়ে করে আবার তালাক দিয়ে প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বরং দ্বিতীয় বিয়েটি হতে হবে স্বাভাবিক ও প্রকৃত দাম্পত্য জীবনের উদ্দেশ্যে।
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, “আল্লাহ লানত করেছেন হিল্লাকারী এবং যার জন্য হিল্লা করা হয় উভয়ের ওপর।” (সুনান আবু দাউদ: ২০৭৬, তিরমিজি: ১১২০)
আরেক হাদিসে রাসূল (সা.) হিল্লাকারীকে “ধার করা পাঁঠা” বলে আখ্যায়িত করেন এবং এই প্রথার প্রতি কঠোর নিন্দা জানান।
ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনো নারী তিন তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে অন্য একজন পুরুষকে বিয়ে করেন এবং পরবর্তীতে সেই বৈবাহিক সম্পর্ক স্বাভাবিক কারণে বিচ্ছেদ বা স্বামীর মৃত্যুর মাধ্যমে শেষ হয়, তাহলে ইদ্দত শেষে প্রথম স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিয়ে করা বৈধ হতে পারে। তবে শুরু থেকেই তালাক দেওয়ার শর্তে বা প্রথম স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা বিয়ে শরিয়তসম্মত নয়।
আলেমরা বলছেন, পরিকল্পিত হিল্লা বিয়ে ইসলামের পারিবারিক ব্যবস্থাকে অপব্যবহারের শামিল এবং এটি একটি গর্হিত কাজ। তাই কুরআন ও হাদিসের আলোকে এমন বিয়ে থেকে মুসলমানদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।