বিয়ে নারী-পুরুষের ভালোবাসাকে বৈধ ও পবিত্র করার একমাত্র হালাল মাধ্যম। ইসলামে এই সম্পর্ককে সুদৃঢ় ও সম্মানজনক করতে যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ, তার মধ্যে অন্যতম হলো দেনমোহর (মোহর)। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নারীর নির্ধারিত অধিকার এবং ইসলামের একটি বাধ্যতামূলক বিধান।
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ বিয়ের জন্য কিছু শর্ত পূরণ করা আবশ্যক। ফুকাহায়ে কেরামের মতে, বিয়ের ক্ষেত্রে বর-কনে বা তাদের অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সাক্ষীদের সামনে ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) হতে হবে। পাশাপাশি দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতি অপরিহার্য।
দেনমোহর নির্ধারণ বিয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদি বিয়ের সময় দেনমোহর নির্ধারণ করা না হয়, তবে ‘মোহরে মিছাল’ প্রযোজ্য হবে—অর্থাৎ কনের সমমানের নারীদের দেনমোহরের ভিত্তিতে তা নির্ধারণ করা হবে।
কুরআন শরীফ-এ আল্লাহ তাআলা বলেন (সুরা মায়েদা: ৫):
“...তোমরা তাদের দেনমোহর প্রদান করে বিবাহ করবে, অবৈধ সম্পর্কের জন্য নয়।”
এই আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, দেনমোহর পরিশোধ করা স্বামীর ওপর ফরজ দায়িত্ব। এটি সম্পূর্ণ নারীর অধিকার—এ অধিকার খর্ব করার কোনো সুযোগ নেই।
ইসলামে দেনমোহরের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত না থাকলেও সর্বনিম্ন পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। শরিয়ত অনুযায়ী সর্বনিম্ন দেনমোহর হলো ১০ দিরহাম, যা প্রায় ৩০.৬১৮ গ্রাম রুপার সমান। এর কম নির্ধারণ করা হলে—যদি স্ত্রী রাজি থাকেন—তা বৈধ হবে না।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন:
“১০ দিরহামের কম কোনো দেনমোহর নেই।” (বায়হাকি)
বর্তমান সমাজে অনেক সময় দেনমোহর নির্ধারণে একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বা কেউ কেউ দেনমোহর ছাড়াই বিয়ে করার চেষ্টা করেন, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি যদি বিয়েতে দেনমোহর উল্লেখ না করা হয় বা না দেওয়ার শর্ত রাখা হয়, তবুও সেই শর্ত বাতিল হবে এবং স্বামীর ওপর দেনমোহর আদায় করা বাধ্যতামূলক থাকবে।
এ ক্ষেত্রে ‘মোহরে মিছাল’ প্রযোজ্য হবে—যেখানে স্ত্রীর পরিবারের সমমানের নারীদের দেনমোহরের পরিমাণ বিবেচনা করে তা নির্ধারণ করা হয়।
সার্বিকভাবে বলা যায়, দেনমোহর শুধু একটি আর্থিক বিষয় নয়; এটি নারীর সম্মান, নিরাপত্তা এবং অধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি বিধান। তাই বিয়ের সময় এটি যথাযথভাবে নির্ধারণ ও পরিশোধ করা অত্যন্ত জরুরি।
ডেস্ক রিপোর্ট